এম আনওয়ারউল হক, বৈষ্ণবনগর: ফের বিপুল পরিমাণ জাল নোট মিলল মালদায়। এবার বৈষ্ণবনগরের এক রংমিস্ত্রির কাছ থেকে ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার পাঁচশো টাকার জাল নোট পাওয়া গিয়েছে। মানজারুল হক নামে বছর ছাব্বিশের এক রংমিস্ত্রিকে লিংকম্যান হিসাবেই জাল নোটের কারবারিরা ব্যবহার করত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় বাংলাদেশ যোগ খুঁজছে পুলিশ।
শুক্রবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালায় বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মানজারুল একটি মোটরবাইক নিয়ে পিটিএস মোড় সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর গতিবিধিতে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে থামিয়ে তল্লাশি চালায়। তখনই তাঁর কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ জাল নোট পাওয়া যায়। তাঁর বাড়ি কুম্ভিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়েনপুর সুকপাড়া এলাকায়।
পুলিশের সন্দেহ, ধৃত তরুণ কোনও বড় আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে লিংকম্যান হিসাবে জড়িত। মানজারুল কোথা থেকে জাল নোটগুলি সংগ্রহ করেছিলেন এবং কার কাছেই বা তা সরবরাহ করতে যাচ্ছিলেন, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃতকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়েছে। চক্রের পর্দা ফাঁস করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে আর কারা জড়িত, জেরা করে তা-ও জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে কালিয়াচক-বৈষ্ণবনগর অঞ্চলের নাম। ভারতের যে প্রান্তেই জাল নোট উদ্ধার হোক না কেন, বারবার নাম উঠে আসে মালদার। সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাল নোট তৈরির কারখানা রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ, সেই জাল টাকা বিভিন্ন রুটে চোরাপথে ঢুকে পড়ছে ভারতীয় বাজারে, আর বৈষ্ণবনগর–কালিয়াচক–গাজোল হয়ে চলছে নেটওয়ার্ক।
এভাবে জাল নোট উদ্ধার হওয়ায় উদ্বিগ্ন মালদার ব্যবসায়ীরা। এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অমর লালার কথায়, ‘প্রতিদিন দোকানে গ্রাহক আসেন, কেউ নগদ দেন। এখন ভয় হয়, হাতে নেওয়া টাকাটা আসল না নকল কে জানে!’ একই আশঙ্কা এখন সাধারণের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। পুজোর বাজারে অনেক বিক্রেতা নগদ লেনদেন এড়িয়ে চলছেন। কেউ কেউ কিউআর কোড বা অনলাইন পেমেন্টের দিকেই ঝুঁকছেন, যাতে অন্তত আর্থিক ক্ষতির ভয় না থাকে।
এই অবস্থায় কালীপুজোর প্রাক্কালে যখন সমগ্র জেলা উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধারের ঘটনা যেন উৎসবের আনন্দের মাঝেই ছড়িয়ে দিল অস্বস্তি ও শঙ্কা। বছরের পর বছর ধরে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল নকল নোট পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
