অনুপ সাহা, ওদলাবাড়ি: কথায় আছে, আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী- এই আপ্তবাক্য জলপাইগুড়ি জেলার প্রান্তিক গ্রাম বাগ্রাকোটের ক্ষেত্রে ভীষণভাবে প্রযোজ্য (Bagrakote)। উন্নয়নের ছোঁয়ায় বাহ্যিক চেহারার যে আমূল পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। বাগ্রাকোটের আমজনতা তা করছেও না।
১০-১২ বছরে এই উন্নয়ন বেশি করে চোখে পড়ছে। বাগ্রাকোটের হয়েছে সার্বিক উন্নয়ন। বিভিন্ন সময়ে দাবি আদায়ে অরাজনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বাগ্রাকোটের সামাজিক পরিসরে পরিচিত মুখ সাগন মোক্তান। কথার ফাঁকে হাতের কর গুনে বাগ্রাকোটের উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরছিলেন তিনি। বললেন, ‘মিনা মোড় থেকে বাগ্রাকোটে ঢোকার একমাত্র যে পূর্ত সড়ক, তা এখন একেবারে কয়লা কোম্পানি পর্যন্ত নতুন তৈরি করা হয়েছে। হয়েছে বড় মাপের কমিউনিটি হল। মিনি স্টেডিয়ামের দাবিও পূরণ হয়েছে ভানু ময়দানে। পাশে রয়েছে ছোট একটি পার্ক। রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বরাদ্দ তহবিল থেকে লাগানো হয়েছে ৫০টিরও বেশি সোলার লাইট। বাগ্রাকোট চা বাগানে সম্প্রতি একটি হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছে।’ এসব সাধারণ মানুষের কাছে বিরাট প্রাপ্তি, সেকথা আড়ালে নয়, প্রকাশ্যেই স্বীকার করছেন অনেকে।
রাকেশ মহন্ত নামে স্থানীয় এক তরুণের সঙ্গে সেই প্রসঙ্গেই কথা হচ্ছিল। তাঁর মতে, এই কাজগুলো বাগ্রাকোটের জনজীবনে অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে। গ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজগুলো হয়েছে। কোনওটাই ব্যক্তিগত স্বার্থপূরণের জন্য হয়নি। এলাকায় উন্নয়ন যে হয়েছে, তা স্বীকার করছে মূল বিরোধী দল বিজেপিও। বাগ্রাকোটের বিজেপি নেতা রাজেশ ক্ষত্রি বলেন, তৃণমূলের বেশ কিছু স্থানীয় নেতা ধরাকে সরা ভাবতে শুরু করেছেন। যার ফলে নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের বিতৃষ্ণা দেখা দিয়েছে। যার লাভ আমরা ঘরে তুলছি।
এদিকে, মূল বাগ্রাকোটের প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দার সামগ্রিক সুবিধার জন্য বেশ কিছু কাজ হয়েছে। তবে এখনও যে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ করা যায়নি, তার অন্যতম বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্প। এলাকার বাসিন্দা তথা তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য সেলিনা ছেত্রী বলেন, কেন্দ্রের বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের কাজ মাঝপথে আটকে আছে।
গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূমিকা অস্বীকারের জায়গা নেই। তা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তবে না পাওয়াও আছে কিছু। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অজিত খাড়কা বলেন, গ্রামের অলিগলির বহু কাঁচা রাস্তা গত ১০-১২ বছরে সিসি রোডে পরিণত হয়েছে। সুষ্ঠু নিকাশি ব্যবস্থার জন্য প্রচুর নালা নির্মাণ হয়েছে।
