নীতেশ বর্মন, শিলিগুড়ি: বাগডোগরা বিমানবন্দরের (Bagdogra Airport) কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, যেভাবে ঢিলেঢালা গতিতে কাজ হচ্ছে, তাতে লক্ষ্যমাত্রা ২০২৭ সালের মার্চের থেকে পিছিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে রাজনৈতিক তর্জাও শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের (TMC) অভিযোগ, ২০২৯ সালে আগামী লোকসভা ভোট। সে সময় বাগডোগরার উন্নয়নকে প্রচারের কাজে লাগাতেই এই পরিকল্পনা হতে পারে। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি (BJP)।
জমি অধিগ্রহণ থেকে কাজ শুরুর ক্ষেত্রে কিছুটা যে ঢিলেমি ছিল, তা মানছেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্টও। তবে এ জন্য তিনি রাজ্য সরকারের ঘাড়েই দায় চাপিয়েছেন। তবে বর্তমানে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে বলে দাবি সাংসদের। যদিও রাজুর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলছেন, ‘আমরা অনেকদিন আগে জায়গা দিয়েছিলাম। ১১০ একর জমি সময়মতো দিয়ে দিয়েছি। বিজেপি তো প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে অ্যাজেন্ডা খোঁজে। জানি না কেন দেরি হবে।’
বাগডোগরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রাথমিক পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। সেখানকার কাজ প্রায় শেষের দিকে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে সরঞ্জাম এবং শ্রমিকের অভাবের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের থেকে প্রয়োজনীয় ১০৪ একর জমি পেতে এবং তার আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতেই কয়েক বছর সময় লেগে গিয়েছিল। তা মিটলেও পাশের এলাকায় জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল। পরিবেশ দপ্তর থেকে ছাড়পত্র পাওয়া এবং প্রায় ১,৫৬০ কোটি টাকার বিশাল বাজেটের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতেও অনেকটা সময় ব্যয় হয়েছে। সেই সমস্যা মিটলেও বিজেপির একাংশ কাজ পাননি বলে অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। দলের অন্দরেও সেই ক্ষোভ সামলাতে হচ্ছে বিজেপিকে।
বাগডোগরা অঞ্চলটি হিমালয়ের পাদদেশে হওয়ায় মাটির গঠন ও আবহাওয়ার কারণে নির্মাণকাজে বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। নতুন টার্মিনালটিকে জলবায়ু সহনশীল করার জন্য বিশেষ ড্রেনেজ সিস্টেম ও নকশার কাজ করতে হচ্ছে বলে দাবি।
নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি বর্তমানের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বড় হবে। বছরে প্রায় ১ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। ১০টি অ্যারোব্রিজ, মাল্টিলেভেল কার পার্কিং এবং অত্যাধুনিক স্থাপত্য থাকবে। রানওয়ে ও টার্মিনাল আধুনিকীকরণের পর এখান থেকে সরাসরি নতুন কয়েকটি দেশে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সম্ভাবনা বাড়বে বলে দাবি। কর্তৃপক্ষের দাবি, এক সময় জমিজট ও প্রশাসনিক কারণে কাজ থমকে ছিল। বর্তমানে কাজে গতি পেয়েছে। এই কাজ শেষ হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
