উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাম মন্দিরে দান সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হিন্দুদের আরও এক পবিত্র তীর্থস্থান বদ্রীনাথে অনুদানের টাকা চুরির অভিযোগ উঠল (Badrinath Temple Corruption)। এই গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েছে দেশজুড়ে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (BKTC)।
গত শুক্রবার ‘ভৈরব সেনা’ নামে একটি হিন্দু সংগঠনের তরফে মন্দির কমিটির কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহন সিং রাঙ্গারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর ব্যক্তিগত সচিব বদ্রীনাথ মন্দিরের প্রণামী বা দানের টাকা চুরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অভিযোগকারী সংগঠনের দাবি, এই বিষয়ে আগে চেয়ারম্যানকে জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবিও তোলা হয়েছে।
অভিযোগ ওঠার পর মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিনের স্থায়ী কর্মী এবং একাধিক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” অন্যদিকে, কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহন সিং রাঙ্গার জানিয়েছেন, প্রাথমিক সিসিটিভি ফুটেজে সবকিছু স্পষ্ট না হওয়ায় একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
চলতি মরশুমে বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ মন্দির থেকে প্রণামী বাবদ ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। পাশাপাশি গেস্ট হাউস ও অন্যান্য মাধ্যম থেকে বছরে গড়ে ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকা আয় হয় এই মন্দিরগুলি থেকে। রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার পর বদ্রীনাথেও অনুদান চুরির এই অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই ভক্ত ও মন্দির কর্তৃপক্ষের মধ্যে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনিক অন্দরে এখন তদন্তের রিপোর্টের দিকেই নজর সকলের।

