উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী ও রক্তক্ষয়ী মোড়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই (Ayatollah Khamenei killed)। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামক এই অভিযানে খামেনেইর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্য এবং দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে।
কেন এই আকস্মিক হামলা?
২০২৫ সালের জুন মাসেও ইজরায়েল খামেনেইকে হত্যার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু তখন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে সায় দেননি। তবে আট মাস পর কেন এই ভোলবদল? ট্রাম্পের দাবি, খামেনেই তাঁকে দু’বার হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন (Assassination try on Trump)। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনী র্যালিতে তাঁর ওপর হওয়া হামলা এবং পরবর্তী সময়ে ফাহাদ শাকেরি নামক এক ইরানি এজেন্টের ধরা পড়ার ঘটনা ট্রাম্পকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
প্রতিরক্ষা না কি আক্রমণ?
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি ছিল, ইরান বড় ধরনের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল (Iranian nuclear program)। পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, “বসে বসে মার খাওয়ার চেয়ে আগে আঘাত করাই ছিল শ্রেয়।” মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থায় রয়েছে, আর এটাই ছিল তাদের পরমাণু ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করার সঠিক সময়।
পালটা আঘাত ও বিশ্ব পরিস্থিতি
খামেনেইর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ও দুবাই, আবুধাবি, কাতার এবং বাহারাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ শুরু করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে চরম প্রতিশোধের অঙ্গীকার করা হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, আলোচনার সময় পার হয়ে গেছে। খামেনেইর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেইকে (Mojtaba Khamenei) নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও ইরানের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
