নয়াদিল্লি: খুব ইচ্ছে ছিল টিভিতে নাতির খেলা দেখবেন। জীবদ্দশায় যদিও সেই স্বাদ পূরণ হয়নি ঠাকুমার। কিন্তু শেষপর্যন্ত ঠাকুমার সেই ইচ্ছেই অক্ষর প্যাটেলকে পৌঁছে দিয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার অভিষ্ট লক্ষ্যে। প্রিয় মানুষের শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে ক্রিকেটকে ধ্যানজ্ঞান করে নেন। পরিশ্রম, প্রচেষ্টার ফল ২০১৪ সালে শেষপর্যন্ত লক্ষ্যপূরণ।
সফল অস্ট্রেলিয়া সফর সেরে দেশে ফিরে এমনই আবেগঘন গল্প শুনিয়েছেন ভারতের স্পিন-অলরাউন্ডার। এক সাক্ষাৎকারে অক্ষর বলেছেন, ‘ঠাকুমা যখন মারা যান, আমি বাড়ির বাইরে। ম্যাচ খেলছিলাম। বাবা আমাকে জানায়নি, যাতে আমার ফোকাস নড়ে যায়। যখন দিন দুয়েক পরে বাড়ি ফিরি, আমাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবা। বলে, ঠাকুমা টিভিতে আমার খেলা দেখতে চেয়েছিল। সেটাই তাঁর শেষ ইচ্ছে ছিল।’
বাবার যে কথাগুলি নড়িয়ে দেয় অক্ষরকে। ক্রিকেট, নিজের কেরিয়ার নিয়ে সিরিয়াস হয়ে যান। ঠিক করে নেন একদিন না একদিন ভারতীয় দলে জায়গা করে নেবেনই। ভারতের নীল জার্সি পড়ে খেলবেন এবং তা টিভিতে দেখাবে। বাবার কাছে সেদিন জোর গলায় সেই শপথও করেন।
পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে অক্ষর আরও বলেছেন, ‘বাবাকে বলেছিলাম, একদিন আমি জাতীয় দলের জার্সি পড়ে ঠিক খেলব এবং তা টিভিতে দেখাবে। সেই মুহূর্তটা এসেছিল ২০১৪ সালে। দলে যখন নির্বাচিত হওয়ার খবর পাই বাবা আর আমি খুব কেঁদেছিলাম।’
ইউটিউব চ্যানেলের বিশেষ যে শোয়ে অক্ষরকে নিয়ে তাঁর ছোটবেলার বন্ধুরাও স্মৃতিচারণ করেছেন। এক বন্ধু জানান, ছোটবেলায় তাঁরা অক্ষরকে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি সনৎ জয়সূর্যের সঙ্গে তুলনা করতেন। ‘জয়সূর্য’ বলে ডাকতেন।
এক বন্ধুর কথায়, অক্ষরের সবচেয়ে প্লাস পয়েন্ট, আত্মবিশ্বাস। বলেছেন, ‘একটা ম্যাচে অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেকে বোলার হিসেবে দাবি করে ও। অথচ, আমরা অক্ষরকে ব্যাটার হিসেবেই জানি। স্কুলের দিন থেকে দেখেছি প্রচুর রান করতে। স্কুল টুর্নামেন্টে দুরন্ত ব্যাটিংয়ের জন্য আমরা ওকে জয়সূর্য বলে ডাকতাম। অক্ষরের খেলার ধরনও ছিল জয়সূর্যের মতো। সেই অক্ষর নিজেকে বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তোলে পরবর্তীকালে!’ এখনও পর্যন্ত ভারতের হয়ে ১৪টি টেস্ট, ৭১টি ওডিআই এবং ৮২টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ২১০০-র বেশি রান ও দুইশোর বেশি উইকেট নিয়েছেন।
