Assam man supplies 15 paperwork however fails to show Indian Citizenship

Assam man supplies 15 paperwork however fails to show Indian Citizenship

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


আদালতে ১৫টি নথি দাখিল করেও নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে পারলেন না অসমের বাসিন্দা এক ব্যক্তি। পেশায় দিনমজুর ওই ব্যক্তির আবেদন খারিজ করে দিল গুয়াহাটি হাই কোর্ট। বিচারপতিদের বেঞ্চের বক্তব্য, দাখিল করা প্রমাণগুলি হয় আইনত অগ্রহণযোগ্য অথবা নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য অপর্যাপ্ত।

গুয়াহাটির কাছে ভাড়াবাড়িতে থাকেন ওই ব্যক্তি। নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতে নথি দাখিল করার পাশাপাশি মৌখিক সাক্ষ্যও দেন তিনি। তাঁর নথিপত্রের মধ্যে ছিল ১৯৫১ সালের ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস’ (এনআরসি)-এর প্রতিলিপি— যেখানে তাঁর বাবা ও ঠাকুর্দা-ঠাকুমার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের ভোটার তালিকা প্রতিলিপি, ২০১৭ সালের একটি স্কুল সার্টিফিকেট, একটি প্যান কার্ড এবং ছবি-সহ ভোটার পরিচয়পত্র। এছাড়া, নিজের বংশপরিচয় বা বংশধারা প্রমাণের জন্য তিনি তাঁর বাবার মৌখিক সাক্ষ্যও পেশ করেছিলেন। এরপরেও কেন নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারলেন না ওই ব্যক্তি?

আরও পড়ুন:

বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং শামিমা জাহানের বেঞ্চে উঠেছিল মামলা। দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনও নথিপত্রই আবেদনকারীর দাবি করা বংশপরিচয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেনি। শুনানি শেষে আদালত নির্দেশ দেয়, আবেদনকারী ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬’-এর ৯ নম্বর ধারার অধীনে নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যেখানে তাঁকে প্রমাণ করতে হত যে তিনি বিদেশি নন, বরং একজন ভারতীয় নাগরিক।

আরও পড়ুন:

অথচ নিজেকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য আবেদনকারী ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল’-এ ১৫টি নথি জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল ১৯৫১ সালের এনআরসির কম্পিউটার জেনারেটেড প্রতিলিপি, ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভোটার তালিকার প্রত্যয়িত প্রতিলিপি, যাতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। আবেদনকারী তাঁর ঠাকুর্দার দ্বারা সম্পাদিত ১৯৭৩ সালের জমির দলিল, হাশডোবা আঞ্চলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের স্কুল সার্টিফিকেট, তাঁর প্যান কার্ড এবং তাঁর এপিক বা ভোটার কার্ড দাখিল করেছেন। অন্যদিকে লিখিত বিবৃতি অনুযায়ী, আবেদনকারীর জন্ম ১৯৮৮ সালে এবং তিনি গুয়াহাটির বোরবোরিতে ভাড়া বাড়িতে থেকে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।

আদালত জানায়, দাখিল করা ১৫টি নথির মধ্যে সবচেয়ে অগ্রহণযোগ্য হল ১৯৫১ সালের এনআরসি সংক্রান্ত নথিপত্র। ১৯৫১ সালের আদমশুমারির পর আসমে ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জি’ (এনআরসি) তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে একটি তালিকা প্রকাশিত হয়, এই প্রক্রিয়ায় ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে বাসিন্দাদের ১৯৫১ সালের পঞ্জির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হয়েছিল, অথবা ১৯৭১ সালের আগের নথিপত্র-সহ ‘লিগ্যাসি ডেটা’ (পূর্বসূরি সংক্রান্ত তথ্য) জমা দিতে হয়েছিল। উল্লেখ্য, অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই এনআরসি করা হয়েছিল।

গুয়াহাটি হাই কোর্ট ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে যে, “১৯৫১ সালের এনআরসি ছিল একটি ফটোকপি বা কম্পিউটার-জেনারেটেড নথিপত্র, যা আইন অনুযায়ী প্রমাণ করা হয়নি”। এই নথির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেছে, “ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম, ২০২৩-এর ধারা ৬৩(৪)-এর অনুরূপ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৫বি-এর অধীনে প্রয়োজনীয় সনদপত্র ছাড়া এর কোনও সাক্ষ্যগত মূল্য থাকবে না।”

তাছাড়া, আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে “ভারতে বসবাসের প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা এনআরসির অংশবিশেষ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়,” এক্ষেত্রে আদালত ১৯৪৮ সালের আদমশুমারি আইনের ১৫ নম্বর ধারার উল্লেখ করেছে, যেখানে আদমশুমারির নথিপত্র সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৯৫১ সালের এনআরসিকে এভাবে অগ্রাহ্য করার ফলে আবেদনকারীর পৈতৃক বংশপরিচয় সংক্রান্ত দাবিটি মূলত ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *