দুবাই: ভারতের সামনে আরও একটা লজ্জার পারফরমেন্স। আবারও অসহায় আত্মসমর্পণ পাকিস্তানের। দলের জঘন্য ক্রিকেটে বিতর্কের ঢেউ ওয়াঘার ওপারে। অবাক সুনীল গাভাসকারের মতো ভারতীয় কিংবদন্তিরাও।
এশিয়া কাপের কমেন্ট্রি টিমে অন্যতম মুখ সানির প্রশ্ন, এ কোন পাকিস্তান। মাঝেমধ্যে তো বুঝতেই অসুবিধা হচ্ছিল, আদৌ এটা পাকিস্তান দল তো? সলমন আলি আঘাদের লজ্জার হারে নুন ছিটিয়ে গাভাসকার বলেছেন, ‘অজয় জাদেজা, ইরফান পাঠান, বীরেন্দ্র শেহবাগরা আমার সঙ্গে একমত হবে কিনা জানি না। তবে আগে কখনও এরকম দুর্বল পাকিস্তান দল আমি দেখিনি।’
হানিফ মহম্মদের প্রসঙ্গ টেনে সানি আরও বলেছেন, ‘১৯৬০ থেকে ওদের খেলা দেখছি। চার্চগেট থেকে ব্রাবোর্ন স্টেডিয়াম পর্যন্ত দৌড়োতাম শুধুমাত্র হানিফ মহম্মদের খেলা দেখব বলে। তার পাশে এই দল ছায়ামাত্র। মনে হচ্ছিল, এটা পাকিস্তান নয়। দিশাহীন শট খেলে আউট হল ব্যাটাররা। বোলারদের হালও তথৈবচ।’
ভারতের কাছে হারলেও পাকিস্তানের সুপার ফোর যাওয়ার দরজা অবশ্য খোলা থাকছে। গ্রুপ লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে হারালেই টিকিট নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে পরের রবিবার ফের ভারত-পাক মহারণের হাতছানি। সাত দিনের মধ্যে ধাক্কা কাটিয়ে ব্যবধান মুছে ফেলা আদৌ কি সম্ভব হবে?
রবিচন্দ্রন অশ্বীনের দাবি, পাকিস্তানের থেকে এই মুহূর্তে কয়েক মাইল এগিয়ে ভারত। দুই দলের মধ্যে কোনও তুলনাই চলে না। অশ্বীনের যুক্তি, ‘সাইম আয়ুব বোলিংয়ে কিছুটা টেম্পারামেন্ট দেখিয়েছে। তিনটি উইকেটই ওর দখলে। বাকিরা সবাই তো খোঁড়াল। উলটো দিকে ভারত একেবারে অন্য মানের দল। তুলনা অযৌক্তিক।’
আইপিএল-কে অনেকাংশে কৃতিত্ব দিচ্ছেন অশ্বীন। বলেছেন, ‘মেগা লিগে চাপের মধ্যে খেলতে অভ্যস্ত অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মারা। অভিষেক প্রথম বল থেকেই শাহিন শাহ আফ্রিদির ওপর ঝাঁপিয়েছে। একই চেষ্টা জসপ্রীত বুমরাহর বিরুদ্ধে করেছিল মহম্মদ হ্যারিস। যার পরিণতি সহজ ক্যাচে উইকেট খোয়ানো। পাক ইনিংসে শেষদিকে শাহিনের ব্যাটিং বাদ দিলে ওদের কেউই বরুণ চক্রবর্তী, কুলদীপ যাদবকে পড়তেই পারেনি।’
ভারতের দুর্দান্ত জয়ে উচ্ছ্বসিত ১৯৮৩ সালের বিশ্বজয়ী দলের সদস্য সৈয়দ কিরমানিও। তবে মনে করছেন, হ্যান্ডশেক বিতর্ক না হলেই ভালো হত। কিরমানির যুক্তি, খেলাধুলো থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখা উচিত। এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা উইকেটকিপার বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়েই রাজনীতির দাপট। তবে ক্রীড়া সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। রাজনীতি আর খেলাকে তাই মিশিয়ে ফেললে ভুল হবে। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা।’
