নাগরাকাটা: ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হতে চলেছে পড়ুয়াদের শিক্ষাগত জীবনের যাবতীয় তথ্য। ‘এক দেশ-এক ছাত্র পরিচয়’ কর্মসূচির অধীনে প্রতিটি স্কুলের সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিন্ন স্থায়ী পরিচয় তৈরি হবে। এর পোশাকি নাম অটোমেটেড পার্মানেন্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রি (আপার) (APAAR ID pupil registration)। ১২ সংখ্যার জীবন মেয়াদি আইডি-র মাধ্যমে এক ক্লিকে পড়ুয়ার স্কুল স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার যাবতীয় খুঁটিনাটি জানা যাবে সহজে। ইতিমধ্যেই সমগ্র শিক্ষা মিশন-এর পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলার জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের এব্যাপারে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। স্কুলগুলি যাতে আপার তৈরির কাজ শুরু করে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। এই মিশন-এর জলপাইগুড়ির সহ প্রকল্প আধিকারিক (এডিপিও) রাজীব চক্রবর্তী বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ভালো একটি উদ্যোগ। স্কুলগুলিকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের ইউ ডাইস প্লাস পোর্টালে সমস্ত স্কুলের ছাত্রছাত্রীর নাম তোলার কাজ চলছে। তৃণমূলের (TMC) আমলে চালু থাকা বাংলার শিক্ষা পোর্টাল থেকে পড়ুয়াদের গত শিক্ষাবর্ষের তথ্য ইউ ডাইস পোর্টালে সিংক্রোনাইজড হয়ে চলে গিয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে ওই ছাত্রছাত্রীদের পরবর্তী শ্রেণিতে পাশ করে আসার পরের তথ্যভাণ্ডার আপডেট করার কাজও প্রায় শেষের পথে। পাশাপাশি নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের নামও পোর্টালে তোলার কাজ চলেছে। এমনকি শুধু ছাত্রছাত্রীই নয়, রাজ্যের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের প্রতিটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ অন্য আরও নানা ধরনের তথ্যও সেখানে আপডেট করা হচ্ছে।
পোর্টালের স্টুডেন্ট মডিউলের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের আপার তৈরি করে নিতে হবে স্কুলগুলিকে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, যে সমস্ত পড়ুয়ার আধার কার্ডের তথ্য আপলোড করা আছে, তাদেরই আপার তৈরি হবে। যাদের এখনও আধার নেই তাদের তা করে নিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তীকালে আর বাংলার শিক্ষা পোর্টালের অস্তিত্ব থাকবে না, এমনটাই ধারণা শিক্ষা মহলের। সরকার বদলের পর সেটির নাম এখন পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা। তবে আপার তৈরি হলে লাভ কী? শিক্ষাকর্তারা জানাচ্ছেন ওই অভিন্ন আইডি দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সমস্ত অ্যাকাডেমিক রেকর্ড বা শিক্ষাগত তথ্য ডিজিটালি এক সূত্রে গাঁথা থাকবে। সুরক্ষিতও থাকবে। সার্টিফিকেট বা মার্কশিট হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই।

