উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ফোন করে অশ্লীল ভাষায় বোলপুরের (Bolpur) আইসি লিটন হালদারকে গালিগালাজ করার অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েছেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondol)। পুলিশ দু’দফায় তাঁকে তলব করলেও অসুস্থতার কথা বলে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন ‘বীরভূমের বাঘ’। বরং তার হয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন আইনজীবীরা। অবশ্য পুলিশও কার্যত হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে।
সোমবার সংবাদমাধ্যমকে অনুব্রত জানিয়েছিলেন, তাঁর শরীর বেজায় খারাপ, কাশি হচ্ছে, তিনি কোভিড পরীক্ষা করাতে চান। কিন্তু মঙ্গলবার কোভিড পরীক্ষা করাননি অনুব্রত। বরং তিনি এদিন জানিয়েছেন, আগের থেকে ভাল আছেন। তবে কাশি যে পুরোপুরি সারেনি সেকথাও জানিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। তবে অনুব্রতর অশ্লীল হুমকির অডিও প্রকাশ্যে আসার পরও অনুব্রতর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ কি অতীতের মতো এবারও অনুব্রতর হুমকির প্রেক্ষিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকবে কিনা তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি বোলপুরের আইসি লিটন হালদারকে কদর্য ( লেখার অযোগ্য) ভাষায় আক্রমণ (Anubrata Modol attacked ic Bolpur) করার অভিযোগ উঠেছিল অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। আইসির সঙ্গে তার কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হয় সেই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সরকার)। পরে অনুব্রতকে সময় বেঁধে দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয় তৃণমূল। চিঠি লিখে দুঃখপ্রকাশও করেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু ওইটুকুই। অনুব্রতর বিরুদ্ধে আর এগোয়নি তৃণমূল। পুলিশও তাদের মতো করে জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করে অনুব্রতকে তলব করলেও কেষ্ট তাতে সাড়া দেননি। পুলিশের তলবের জবাবে বোলপুরের এসডিপিও অফিসে যান অনুব্রতর আইনজীবী। রবিবার তাঁর আইনজীবী মেডিক্যাল সার্টিফিকেটও জমা দিয়ে আসেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘৫ দিন বেড রেস্টে থাকতে হবে কেষ্ট মণ্ডলকে।’ যদিও সেই সার্টিফিকেট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেষ্ট-ঘনিষ্ঠ মলয় পিটের শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসক সেই সার্টিফিকেট দেন। যদিও অনুব্রতর অসুস্থতার দাবি ঘিরেই সংশয় রয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, অনুব্রতর বিরুদ্ধে আইনি পক্রিয়া শুরু হলেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর আগে সিবিআই তলবের সময়ও তিনি একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এখন দেখার গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ সত্যিই কোনও ব্যবস্থা নেয়, নাকি এবারও পার পেয়ে যান অনুব্রত মণ্ডল ?
