উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের আবহে এবার সবচেয়ে বড় চমক বীরভূমে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও স্নেহের ‘কেষ্ট’ তথা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) এখন সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক শিবিরে। বদলের বাংলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর পুনরায় বীরভূম জেলা সভাপতির কুর্সি ফিরে পেয়েছেন তিনি। কিন্তু দায়িত্ব ফিরতেই বোলপুরের দলীয় কার্যালয় থেকে উধাও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ছবি! যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। কার্যালয় থেকে অভিষেকের ছবি সরানো নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে ও বাইরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এই বিতর্ককে একপ্রকার ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর চেনা ভঙ্গিতেই তিনি বলেন, “আমার অফিসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি কোথায় ছিল? থাকলে তো সরানোর প্রশ্ন। আমার চোখে পড়েনি। আমার ঘরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর তারা মায়ের ছবি আছে, সেটাই থাকবে।”
কূটনৈতিক চাল চেলে নিজের রাজনৈতিক উদারতা বোঝাতে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়েছি, তাও আমার বাড়িতে ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধীর ছবি আছে। এমনকি অটল বিহারী বাজপেয়ীর ছবিও আমি রেখেছি।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঋতব্রত শিবিরের লাইনেই পা বাড়াচ্ছেন কেষ্ট। কারণ ঋতব্রতর দল দীর্ঘদিন ধরেই ‘মমতাকে মানলেও অভিষেককে মানি না’ তত্ত্বে বিশ্বাসী, আর অনুব্রতের এই পদক্ষেপ সেই জল্পনাকেই সিলমোহর দিচ্ছে।
শুধু দলের অন্দরের সমীকরণ বদলানোই নয়, এদিন সম্পূর্ণ উল্টো সুরে হেঁটে বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশংসাও করলেন অনুব্রত মণ্ডল। একসময়ের চরম বিরোধী শুভেন্দুর লড়াকু মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি যখন গদিতে বসেছে, তখন তারা উন্নয়ন করবেই। খুব ভালো কাজ করছে ওরা। আর শুভেন্দু তো ভীষণ লড়াকু ছেলে, আজ থেকে নয়, সেই নন্দীগ্রামের সময় থেকে ও লড়াই করছে।”

