উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র (Annapurna Yojana Bengal) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সরকার গড়েই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে তৎপর হল নতুন রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে রাজ্যের ২৮ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের ৩ হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে (Annapurna scheme roll-out) বলে নিশ্চিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি, আসন্ন রাজ্য বাজেটে যে কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হবে, সেই ইঙ্গিতও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
বুধবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অন্নপূর্ণা যোজনার সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। গত ৩ জুন রাজ্যের প্রায় ২৮ লক্ষ সুবিধাভোগী মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ১ লক্ষ ৫ হাজার মহিলা এই প্রকল্পে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। ভেরিফিকেশন শেষে আগামী ১ জুলাই তাঁরা একসঙ্গে জুন মাসের টাকাও পেয়ে যাবেন। যে সমস্ত মহিলা এখনও আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের জনকল্যাণ শিবির থেকে ফর্ম পূরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেবল মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষাই নয়, সরকারের লক্ষ্য যে সার্বিক উন্নয়ন, তা স্পষ্ট হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বাজেট-ভাবনায়। আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলেছে নতুন রাজ্য বাজেট। এই বাজেট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী, যুবক-যুবতী এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে (Bengal authorities funds)। এর পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতেও বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে নবান্ন। মানুষের বিপুল প্রত্যাশা পূরণে সরকার যে দায়বদ্ধ, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে সাধারণ মহিলাদের ১,৫০০ টাকা এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলাদের ১,৭০০ টাকা দেওয়া হতো। সেই জায়গায় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। তবে, এই প্রকল্পের ১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, ফর্মের এই জটিলতা সাধারণ মানুষকে হয়রান করছে। যদিও বিরোধীদের এই অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ সরকারপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট, অযথা বিতর্কে কান না দিয়ে যোগ্য মহিলাদের হাতে দ্রুত আর্থিক সুবিধা তুলে দেওয়াই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আসন্ন বাজেট এবং অন্নপূর্ণা যোজনার হাত ধরে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক চিত্রে ঠিক কী পরিবর্তন আসে, এখন সেটাই দেখার।

