উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা সংক্রান্ত নিয়মকানুন এবং উপভোক্তা বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে বুধবার নবান্নে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবেদনপত্র যাচাইয়ের কাজ বর্তমানে অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১৭ তারিখ থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো শুরু হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?
- বয়সসীমা: ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
- পরিবার ও পেশা: যে কোনও বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ঠিকা শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যেরা এই প্রকল্পে আবেদন জানাতে এবং সুবিধা পেতে পারবেন।
- অন্যান্য ভাতা: ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে যাঁরা ৩ হাজার টাকার কম ভাতা পান (যেমন, দেড় হাজার টাকা বিধবা ভাতা), তাঁরা কেবল অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকাই পাবেন। তবে এই ক্ষেত্রে দুটি বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে— ১. দিব্যাঙ্গ ভাতা: যাঁরা দিব্যাঙ্গ ভাতা পান, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি ওই ভাতাও পাবেন (দুটি ভাতাই মিলবে)। ২. পিএম কিষাণ নিধি: পিএম কিষাণ নিধি যোজনার উপভোক্তা কৃষকদের পরিবারের সদস্যেরাও অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন?
- আয়ের শর্ত: মাসিক ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি আয় করেন এমন কোনও মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না। পাশাপাশি, বার্ষিক পারিবারিক আয় ১২ লক্ষ টাকা বা তার বেশি হলেও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বাদ পড়তে হবে।
- বয়স: ২৫ বছরের কম বয়সি মহিলারা এই যোজনার সুবিধা পাবেন না।
- জমির মালিকানা: ৭টি পুরনিগম এলাকার কোনো বাসিন্দার যদি ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকে, তবে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। (উল্লেখ্য, গ্রামীণ এলাকার জমির পরিমাণের ক্ষেত্রে এই নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়েছে)।
- সরকারি চাকরি: কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার পোষিত সংস্থা, পঞ্চায়েত, পুরসভা, কিংবা সরকার ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা স্থায়ী সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত পরিবারের কেউ থাকলে এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে পেনশনভোগীরাও এর বাইরে থাকবেন।
- বাড়ির আয়তন: পূর্বে তিন কক্ষবিশিষ্ট পাকা বাড়ি থাকলে অন্নপূর্ণার অর্থ না পাওয়ার কথা বলা হলেও, গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে সেই শর্ত বর্তমানে শিথিল করা হয়েছে।
অন্নপূর্ণার যোজনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- টাকা পাওয়ার দিন: যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে আগামী ১৭ তারিখ থেকে যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। অর্থ দপ্তর জেলাওয়ারি এই অর্থ ট্রান্সফার করবে। প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
- উপভোক্তার সংখ্যা: প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ২৮ লক্ষ মহিলাকে এই টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং জুলাই মাসে তা বেড়ে ১ কোটি ১৯ লক্ষে পৌঁছায়। আগামী কিস্তিতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
- অভিযোগ প্রতিকার: কোনও যোগ্য উপভোক্তা যাতে বঞ্চনার শিকার না হন, তার জন্য একটি বিশেষ অভিযোগ পোর্টালের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই পুরো বিষয়টি বিডিও-দের তত্ত্বাবধানে এবং মুখ্যসচিবের নজরে পরিচালিত হবে।

