উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজ্যজুড়ে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্যের সঠিক যাচাইকরণ এবং নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালুর প্রক্রিয়া (Annapurna Yojana) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় থাকা ‘বেনোজল’ বা অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে একটি বিশুদ্ধ তালিকা তৈরি করা।
নতুন প্রকল্পের মূল শর্ত ও কারা সুবিধা পাবেন
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং আর্থিকভাবে দুর্বল হতে হবে। তবে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না:
- আয়কর প্রদানকারী: যাঁরা নিয়মিত আয়কর দেন।
- সরকারি চাকরিজীবী: যাঁরা স্থায়ী সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত।
- নিয়মিত বেতনভোগী বা পেনশনভোগী: যাঁরা নিয়মিত সরকারি বা বেসরকারি বেতন বা পেনশন পান।
- ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যা: ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ গিয়েছে এবং ট্রাইবুনালে আবেদন করেননি, এমন প্রায় ৩০ লক্ষ বর্তমান লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তা এই নতুন প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না।
ফর্ম পূরণ ও সময়সীমা
সরকার এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য ৯০ দিনের সময়সীমা ধার্য করেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই ফর্ম পূরণের জন্য তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজন নেই।
- জুন মাসের সুবিধা: যাঁরা আগামী ২ জুনের মধ্যে নথিভুক্তকরণ সম্পন্ন করবেন, তাঁরা জুন মাস থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। সেই সময় থেকেই তাঁদের পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বন্ধ হয়ে যাবে।
- অব্যাহত সুবিধা: যতক্ষণ না অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ ও নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ আগের নিয়মেই ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প চালু থাকবে।
সহযোগিতা ও জনকল্যাণ শিবির
ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে:
- বাড়ি বাড়ি সহায়তা: অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম পূরণে অক্ষম ব্যক্তিদের সাহায্য করতে সরকারি আধিকারিকেরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি যাবেন। এই কাজে নবনির্বাচিত বিধায়কদেরও বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- জনকল্যাণ শিবির: আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ তারিখ রাজ্যজুড়ে ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজিত হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি ফর্ম পূরণের বিষয়ে সহায়তা পাবেন।
- তথ্য সংগ্রহ: ফর্মের মাধ্যমে সরকার পরিবারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে, যাতে ভবিষ্যতে এই তথ্য অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়। পুরো বিষয়টি মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে তদারকি করা হবে। আধার ও ভোটার তালিকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত দক্ষ আধিকারিকদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে যাতে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
