উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ আজ, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা’র তিনদিনের বঙ্গ সফর (Amit Shah West Bengal Go to)। ১৭, ১৮ ও ১৯ জুলাই—এই তিনদিন রাজ্যজুড়ে তাঁর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সুশাসন এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের দিকে কড়া নজর রাখতে চলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই সফরের প্রতিটি পদক্ষেপই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী।
শনিবার, ১৮ জুলাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মূল ফোকাস থাকবে উত্তরের সীমান্ত এলাকাগুলোতে। শিলিগুড়ির জুমাগাছ সীমান্ত চৌকি পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি বিএসএফের ১৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন এবং তাঁদের মনোবল বৃদ্ধির চেষ্টা করবেন। এদিনই বিএসএফ-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তিনি। পাশাপাশি, রাজ্যে সদ্য কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS) এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইন (BSA)-এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখবেন তিনি। এছাড়া জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার হালহকিকত নিয়েও একটি বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।
সফরের শেষদিন অর্থাৎ ১৯ জুলাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মূলত কলকাতার কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন। সকালের শুরুতেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তিনি। এরপর আলিপুরের ঐতিহাসিক ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে গিয়ে ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’-এর প্রথম পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। দুপুরের পর কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে তিনি অমূল ডেয়ারির দই প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টের শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের শিল্পমহলকে লগ্নির বিষয়ে একটি জোরালো বার্তা দেবেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক কথায়, সীমান্ত রক্ষা থেকে শুরু করে উন্নয়ন ও শিল্পের প্রসার—এই তিনদিনের সফরে অমিত শায়ের কর্মসূচির প্রতিটি ছত্রে রয়েছে বিশেষ কৌশলী বার্তার ইঙ্গিত।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৬ তারিখ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষেও তিনি রাজ্যে এসেছিলেন। সেই সফরে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির ভিত্তি স্থাপন সহ একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সিএএ (CAA) এবং সীমান্ত সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন তিনি। সেই সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের তাঁর এই বঙ্গ সফর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করছে।

