উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকায় (America) কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) গোপন ইমেল ফাঁস করে দিলেন ডেমোক্র্যাট পার্টি। সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রসঙ্গ উঠে এল। ইমেলে এপস্টিন লিখেছেন, ‘ট্রাম্প ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমার বাড়িতে পড়ে থাকতেন। সঙ্গে থাকতেন যৌন হেনস্থার শিকার হওয়া তরুণীরা।’ এই মেয়েগুলো এপস্টিনের লালসার শিকার হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ডেমোক্র্যাট পার্টির সদস্যরা বুধবার এধরনের একগুচ্ছ ইমেল প্রকাশ করে দাবি করেছেন, সেগুলি এপস্টিনের লেখা ইমেল। যদিও ট্রাম্প অবশ্য এই নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে এগুলো সব ভুয়ো।
ডেমোক্র্যাট পার্টির দাবি, এপস্টিনের যৌন কেলেঙ্কারির কথা ট্রাম্প আগে থেকেই জানতেন। এপস্টিনের সঙ্গে একসময় ট্রাম্পের ভালো বন্ধুত্ব ছিল। দু’জনের একসঙ্গে একাধিক ছবি রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প প্রকাশ্যে তা স্বীকার করেননি। তবে ট্রাম্প বার বার দাবি করেছেন, যৌন অপরাধী হিসাবে এপস্টিনকে তিনি চিনতেন না। তাঁর অপরাধমূলক কার্যকলাপের কথা কিছুই জানতেন না।
একটি মার্কিন সংবাদমাধম সুত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ্সের তদন্তকারী কমিটি হাজার হাজার পৃষ্ঠার গোপন নথি পেয়েছে। এগুলি এপস্টিনের ইমেলেরই অংশ।
একটি ইমেলে এপস্টিনকে সরাসরি বলতে দেখা গিয়েছে, ‘ট্রাম্প মেয়েদের ব্যাপারে সব জানেন।’
যে সমস্ত মেয়ে এপস্টিনের শিকার হয়েছিলেন তাঁদের অধিকাংশই নাবালিকা ছিল। শিশুদের উপর যৌন অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে এপস্টিনের বিরুদ্ধে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০১৯ সালে জেলের মধ্যেই আত্মঘাতী হন এপস্টিন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের বন্ধুত্ব থাকলেও তার অপরাধের সঙ্গে কোনও যোগ নেই। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অভিযোগ শুধুমাত্র ডেমোক্র্যাটদের চক্রান্তমাত্র।
এদিকে বুধবার ক্যালিফর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রবার্ট গ্র্যাসিয়া বললেন, ‘প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক কেমন ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এই সমস্ত ইমেল। হোয়াইট হাউস আর কী কী লুকিয়ে রেখেছে? সেই প্রশ্নও উঠছে।’
ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইমেলগুলি করেছিলেন এপস্টিন।
২০১১ সালের একটি ইমেলে দেখা গিয়েছে, ট্রাম্প একটি মেয়ের সঙ্গে এপস্টিনের বাড়িতে ঘণ্টার পর ঘন্টা কাটিয়েছে। সেকথাও উল্লেখ রয়েছে। এই ইমেল কাণ্ড নিয়ে বর্তমান আমেরিকায় ব্যপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
