রাজু সাহা, শামুকতলা: প্রকল্পের নাম জলস্বপ্ন। যদিও বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে যাওয়ার সেই স্বপ্ন প্রায় ভুলতে বসেছে আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের দক্ষিণ মজিদখানা ও খানুপাড়া এলাকার সাত হাজার পরিবার। প্রায় এক বছর আগে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। পরের ছয় মাসের মধ্যে গ্রামে বিশালাকার জলের ট্যাংক বসানো এবং পাইপলাইন পাতার কাজও চলে। কথা ছিল প্রতিটি বাড়িতেই পানীয় জলের লাইন চালু হবে। কিন্তু বাস্তবে মাত্র এক হাজার বাড়িতে জলের লাইন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৫০০টি বাড়িতে জল পৌঁছেছে। ফলে ওই দুটি গ্রামের বাকি পরিবারগুলি পরিস্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত।
যদিও আলিপুরদুয়ার-২ (Alipurduar) এর বিডিও নিমা শেরিং শেরপা বলেন, ‘দ্রুত যাতে সমস্ত বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ শেষ হয়, সেই ব্যাপারে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।’
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের কর্তাদের মুখেও একই আশ্বাসবাণী শোনা যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, খুব শীঘ্রই বাকি সব বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ শুরু হবে। এব্যাপারে পিএইচই-র আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ার ধীরাজ মণ্ডল বলেন, ‘খুব শীঘ্রই আমাদের কাজ আবার শুরু হবে।’
যদিও প্রকল্পের কাজ হওয়ার পরেও জল না মেলায় এলাকার মানুষের মধ্যে দিন-দিন ক্ষোভ বাড়ছে। এছাড়া সামনেই গ্রীষ্ম আসন্ন। তখন প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ তীব্র জলকষ্টের ভোগান্তি পোহাতে বাধ্য হবেন। দক্ষিণ মজিদখানা গ্রামের সুভাষ রায়, রাখাল পাল, মন্টু দেবনাথের মতো বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়া হলেও জল পৌঁছায়নি। সুভাষ বলেন, ‘সংযোগ দেওয়ার পর ভেবেছিলাম আমরা দ্রুত পরিস্রুত পানীয় জল পাব। কিন্তু জলের পাইপলাইন পাতা হলেও জল আসছে না।’ অন্যদিকে, ওই এলাকারই আরেক বাসিন্দা ঝন্টু দাসের বাড়িতে তো সংযোগও পৌঁছায়নি।
এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও জলের দাবিতে সুর চড়িয়েছেন। ওই এলাকার দুই পঞ্চায়েত সদস্য কাকলি পাল সরকার এবং বননবালা দাস বিশ্বাস পানীয় জলের সুবিধা দিতে এমন গড়িমসি নিয়ে রীতিমতো বিরক্ত। কাকলি বলেন, ‘আমি বিষয়টি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সহ সমস্ত প্রশাসনিক কর্তাদের জানিয়েছি। এরপরও প্রকল্পের সুবিধা দিতে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এলাকার বিধায়ককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমাদের দাবি অবিলম্বে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।’ অন্যদিকে, এলাকার বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালও বিষয়টি নিয়ে ওয়াকিবহাল। তিনি বলেন, ‘আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।’
