ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : দলত্যাগ বিরোধী আইনে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে মামলা করেছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুকুলের পদ খারিজ করেছে হাইকোর্ট। এবার আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে মামলা করলেন শুভেন্দু। বুধবার তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। সন্ধ্যার পর এই খবর আলিপুরদুয়ারে জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে আদৌ এই মামলার রায় হবে কি না, সুমন পদ খোয়াবেন কি না, যদি পদ খোয়ান, তাহলে উন্নয়নের কাজে কোনও সমস্যা হবে কি না, ইত্যাদি প্রশ্ন নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।
প্রতিক্রিয়া জানার জন্য এদিন বিধায়ক সুমনকে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনও উত্তর দেননি। আর আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘কে কী বিষয়ে কোথায় মামলা করেছে, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে যা বলার শীর্ষ নেতৃত্বই বলবে।’
এদিকে সুমনের নামে মামলা হতেই সবচেয়ে খুশি জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। দলের আলিপুরদুয়ার জেলার সভাপতি মিঠু দাস বলেন, ‘সুমন কাঞ্জিলাল মানুষের রায়ে জয়ী হয়ে বেইমানি করেছেন। তিনি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দল পালটেছিলেন। তাই তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ হওয়াই উচিত।’
যদিও বিজেপির কথাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। তাঁর কথায়, ‘গোটা দেশেই অন্য দল থেকে অনেক সাংসদ, বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে কিছু হচ্ছে না। অথচ বিজেপি ছেড়ে আমাদের দলে যোগ দেওয়া বিধায়কদের বিরুদ্ধে বিজেপি মামলা করছে। বিজেপির নেতারা দ্বিচারিতা করছেন।’
গত ১৩ তারিখ দলত্যাগ বিরোধী আইনে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে হাইকোর্ট। সেদিন টিভি দেখতে দেখতে মামলাকারী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘আব সুমন কাঞ্জিলালকি বারি।’ সেদিনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে সুমনের বিরুদ্ধেও মামলা হতে চলছে। সেই ঘটনার পর এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই সেই মামলা দায়েরও হয়ে গেল।
সুমনের বিধায়ক পদ খারিজ হলে চলতে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলির কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দারাও বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো আলোচনা করছেন। শহরের ক্রীড়া সংগঠক বিদুৎ রায় বলেন, ‘বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের উদ্যোগেই সুইমিং পুল, ওপেন জিম সহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু মামলায় যদি রায় তাঁর পক্ষে না যায়, তবে কাজগুলির কী হবে?’
সুমন ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক হন। পরে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দলত্যাগ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে নাম লেখান। যদিও সেই সময় সুমন দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি দলত্যাগ করেননি, অভিষেকের হাত থেকে উত্তরীয় নিয়েছিলেন মাত্র। বর্তমানে সুমন বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান। যদি তাঁর দশাও মুকুল রায়ের মতো হয়, তাহলে আগামী বিধানসভা ভোটে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে জেলার সব রাজনৈতিক দল মনে করছে।
