Alipurduar | শহরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘অচল’ ট্রাক! প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Alipurduar | শহরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘অচল’ ট্রাক! প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার স্টেশন (Alipurduar) এলাকা থেকে রেকের সিমেন্ট সহ অন্যান্য পণ্য পরিবহণের কাজে ব্যাপকভাবে পুরোনো ও ফিটনেসহীন ট্রাক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বেশিরভাগ ট্রাকেই বৈধ ফিটনেস সার্টিফিকেট, ইনসুরেন্স ও চালকের লাইসেন্সের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেই বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কোনওরকম আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায় না, তেমনি মোটা অঙ্কের সরকারি রাজস্বেরও চূড়ান্ত ক্ষতি হচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে গোপন আঁতাত তৈরি করে একশ্রেণির ট্রাক মালিক ও বিভিন্ন সংগঠন বেআইনিভাবে এই ট্রাকগুলো রাস্তায় চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক প্রেমা চুকিং সেরিং বলেন, ‘এমন কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। তবে নজরে পড়লে বিভিন্ন সময় আর্থিক জরিমানা করা হয়ে থাকে।’ সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়ে আলিপুরদুয়ার ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক গোবিন্দ সরকার বলেন, ‘ট্রাক চালানোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব গাড়িতেই রয়েছে।’

গত বৃহস্পতিবার নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশন চত্বরে একটি ট্রাকে চাপা পড়ে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হওয়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তী তদন্তে জানা যায় যে, চালকের কোনও বৈধ লাইসেন্স ছিল না এবং ট্রাকটির ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ইনসুরেন্সের মেয়াদও অনেক আগেই ফুরিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় শ্রমিকদের মতে, এই দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকটি ছাড়াও শহরের রাস্তায় চলাচলকারী অধিকাংশ ট্রাকের বিরুদ্ধেই একই ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রেলের একাংশ অসাধু কর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশ রেখে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই কাগজপত্রহীন ট্রাকগুলো ব্যবহারের অনুমতি আদায় করা হয়। আলিপুরদুয়ার বালি-পাথর ট্রাক মালিক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক সোনা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্দিষ্ট ট্রেডিং কোম্পানি রেকের পণ্য লোডিং ও আনলোডিংয়ের জন্য আলিপুরদুয়ারে দুটি ট্রাক সংগঠনকে অবগত করে। তারপর ট্রাক সরবরাহ করা হয়।’ তবে অচল ট্রাক রাস্তায় নামার অভিযোগ তিনিও মানতে চাননি। এছাড়া ট্রাফিক নিয়ম ও নির্দেশিকা অমান্য করে শহরের মনোজিৎ নাগ বাস টার্মিনাস সহ বিভিন্ন রাস্তায় দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক পার্কিং করে রাখার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

আলিপুরদুয়ার শহরের রাস্তায় সিমেন্ট ও রড ছাড়াও বালি-পাথর বোঝাই ট্রাকের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ট্রাক ১৫ থেকে ২০ বছর পুরোনো। নিয়ম অনুযায়ী, একটি ট্রাক ১০ বছরের কম পুরোনো হলে ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য ১০৫০ টাকা এবং ১০ বছরের বেশি পুরোনো হলে ১২৫০ টাকা সরকারি ফি দিতে হয়। এছাড়া ট্রাকের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ইনসুরেন্স বাবদ ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, বার্ষিক ট্যাক্স বাবদ প্রায় ১২ হাজার টাকা এবং হেভি মোটর ভেহিকল লাইসেন্সের জন্য ১২০০ টাকা খরচ পড়ে। অনেক ট্রাক মালিক এই বিপুল খরচ বাঁচাতে নানা কৌশলের আশ্রয় নেন এবং পুলিশ ও প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্তাদের নাম ভাঙিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন বলে অভিযোগ। প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ধরনের বেআইনি ট্রাক দিনের পর দিন রাস্তায় চলছে তা অনেকেরই প্রশ্ন। দ্রুত সমস্যা মেটানোর দাবি জোরালো হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *