আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জংশন এলাকায় তালিকা মিলিয়ে মিলিয়ে এসআইআর-এর ফর্ম বিলি করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা বিএলও-দের। বিশেষ করে রেলের কোয়ার্টারে গিয়ে অনেক ভোটারেরই খোঁজ মিলছে না।
এমন সমস্যার কারণ খুঁজতে গিয়ে অনেকগুলি কথা উঠে এসেছে। আলিপুরদুয়ার জংশন এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই রেলকর্মী। তাঁদের মধ্যে অনেকে একসময় দীর্ঘদিন রেল কোয়ার্টারে ছিলেন। তাই সেখানকার ভোটার তালিকায় নামও তুলেছিলেন। তারপর একসময় অবসর নিয়েছেন। তখন অন্যত্র চলে গিয়েছেন। কোথাও নতুন বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন। নতুন করে সেখানকার ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। এখানে তাঁদের খোঁজ মিলছে না।
অবসর নিয়ে চলে যাওয়াটাই অবশ্য খুঁজে পাওয়ার একমাত্র কারণ নয়। সেখানকার কিছু কোয়ার্টার রেলের তরফে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে গিয়ে না কোয়ার্টার, না ভোটার- কারও খোঁজ মিলছে না।
প্রায় প্রতিটি রেল কলোনির চিত্রটা একই। তার ওপর আবার রেলকর্মীদের একটা বড় অংশের দিনে ডিউটি থাকে। ফলে তাঁদের বাড়ি গিয়েও লোক না থাকায় বিএলও-দের ফিরে আসতে হচ্ছে। ট্রেন ম্যানেজার, লোকোপাইলট, সহকারী লোকোপাইলট, টিকিট কালেক্টর, ড্রাইভার, ট্র্যাকম্যানদের অনেকে ডিউটির জন্য বাইরে থাকেন। অনেকে কয়েকদিন পরপর বাড়ি ফেরেন। আর এসব পদে কর্মরত অনেকেই মূলত আলিপুরদুয়ার শহরের বাইরে থেকে আসা বাসিন্দা। এখানে পরিবার-পরিজন থাকেন না। তাই বিএলও-রা গিয়ে দেখছেন ফাঁকা বাড়ি।
আলিপুরদুয়ার জংশন এলাকায় প্রায় ১০টি বুথ রয়েছে। তালতলা কলোনি, দুধিয়া কলোনি, কালীবাড়ি কলোনি, আরপিএফ কলোনি, সুভাষ কলোনি, অরবিন্দ কলোনিতে সমস্যা বেশি বলে জানা গিয়েছে। জংশন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক বিএলও বলেন, ‘দ্রুত সমস্ত ফর্ম বিলির নির্দেশ রয়েছে। এদিকে, রেল কোয়ার্টারে গিয়ে অর্ধেক আবাসিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বহু রেল কোয়ার্টার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অনেকে চলে গিয়েছেন।’ আরেকজন বিএলও-র কথায়, ‘‘ভোটের সময় রেলকর্মীরাও তো ভোটের ডিউটি দিতে যান। ফলে সেখানকার বুথগুলিতে ভোটদানের শতকরা হারও কম হয়। রেল আবাসন এলাকার বুথে ‘শিফটেড’ ও ‘অ্যাবসেন্ট’ ভোটারের সংখ্যা বেশি। মৃত ভোটারের নাম কাটাতেও অনীহা রয়েছে।’’
