Alipurduar | রেললাইনে নাশকতা, দেরিতে বহু ট্রেন 

Alipurduar | রেললাইনে নাশকতা, দেরিতে বহু ট্রেন 

শিক্ষা
Spread the love


প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: রেললাইনে নাশকতার অভিযোগ উঠল অসমে (Assam)। আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহর থেকে প্রায় ৮০ কিমি দূরে, অসমের সালাকাঠি ও কোকরাঝাড়ের মাঝখানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রেল ট্র্যাক উড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বুধবার রাতে। রেলকর্তাদের দাবি, প্রায় দুই ফুট দীর্ঘ রেল ট্র্যাক টুকরো হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেললাইনের মাঝে থাকা সিমেন্টের স্লিপার। এমনকি পঁচিশ হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎবাহী তারেরও ক্ষতি হয়েছে। ওই ঘটনার পর রেললাইন সংস্কারের জেরে রেল চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বেশ কিছু ট্রেন লেটে চলেছে।

কী ঘটেছিল? রাত প্রায় ১টা নাগাদ ওই লাইন দিয়ে একটি চিনিবোঝাই মালগাড়ি যাচ্ছিল। মালগাড়িটি বিস্ফোরণস্থল থেকে কিছুটা দূরে ছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি বোধ হতেই লোকোপাইলট ট্রেন থামানোর চেষ্টা করেন। বিস্ফোরণ হয়েছে বলে অনুমান করে ঘটনাস্থলে পৌঁছান লোকোপাইলট ও ট্রেন ম্যানেজার (গার্ড)। তারপরেই আরপিএফ, রেলকর্তা সহ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও খবর দেওয়া হয়। বড়সড়ো নাশকতার ছক ছিল বলে মনে করছে রেলমন্ত্রক।

আরপিএফ ও রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে বিস্ফোরণে ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে অন্য কোনও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখানে পেট্রলিং ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সেই মালগাড়ির পরে পরেই ওই লাইন দিয়ে সরাইঘাট ও বিবেক এক্সপ্রেসের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন যাওয়ার কথা ছিল। যাত্রীবাহী ট্রেন যদি সেই ভাঙা লাইনে উঠে পড়ত, তবে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার তরফে নমুনা সংগ্রহের পর ট্র্যাক মেরামতের কাজ শুরু হয়। ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে ট্রেন চলাচল ফের স্বাভাবিক হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম দেবেন্দ্র সিং সহ অন্য রেলকর্তারা। এই বিষয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের সিপিআরও কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলেন, ‘ট্রেন ম্যানেজার তীব্র ঝাঁকুনির পর ট্রেন থামানোর কথা জানান। বিস্ফোরণের ফলে রেল ট্র্যাক ও স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অসম পুলিশ, আরপিএফ সহ তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।’ ঘটনায় ৮টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে। বিবেক ও সরাইঘাট এক্সপ্রেস দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। দীপাবলি ও ছটপুজোকে কেন্দ্র করে এখন সমস্ত ট্রেনেই ভিড় রয়েছে। অসমের বেশিরভাগ ট্রেন ওই লাইন হয়েই চলাচল করে। অসমের নিউ বঙ্গাইগাঁও এবং নিউ আলিপুরদুয়ার ও নিউ কোচবিহারের পর নিম্ন অসম এলাকায় কোকরাঝাড় গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। স্বাভাবিকভাবেই এই বিস্ফোরণের ঘটনায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে রেলমন্ত্রকের। সাম্প্রতিককালে অসমে নাশকতার তেমন অভিযোগ ওঠেনি।

এর আগে বিভিন্ন সময় বোরোল্যান্ড জনিত বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি সরগরম হলেও বর্তমানে সেই পরিস্থিতি বদলেছে। তবে হঠাৎ করে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত রয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলায় রেলমন্ত্রক এই বিষয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *