ভোট আসতেই প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের মুখে শোনা যায় প্রতিশ্রুতির বন্যা। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। ভোট প্রাক্কালে প্রতিটি দলই এখন তাদের কাজের খতিয়ান হাতে মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রতিশ্রুতিমতো কাজ কতটা পেলেন জনগণ? প্রমিস ডে-তে তারই খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেল আকাশপাতাল ফারাক।
অভিজিৎ ঘোষ ও সায়ন দে, আলিপুরদুয়ার: এই তো ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগের কথা। তড়িঘড়ি আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহর সংলগ্ন জংশনে রেলের জমিতে মাল্টি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির জন্য শিলান্যাস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হল। সেটা আবার বাতিলও হল। নির্বাচন ঘোষণা হল। বিজেপির প্রার্থী মনোজ টিগ্গা প্রতিশ্রুতি দিলেন, হাসপাতাল তৈরি হবেই। নির্বাচন শেষ হল। সাংসদ হিসেবে মনোজ (Manoj Tigga) প্রায় দু’বছর সময় পার করতে চললেন। তবে এখনও হাসপাতালের একটা ইটও গাঁথা হল না।
একইভাবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ঝুলে রয়েছে হাসিমারায় বিমানবন্দর (Hasimara Airport) তৈরির পরিকল্পনা। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের অবস্থাও একই। বিজেপির টিকিটে জিতে তৃণমূলে নাম লেখানোর প্রায় তিন বছর সময় হলেও সুমনের উল্লেখযোগ্য কাজ হাতেগোনা। জেলা শহরে জলনিকাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর জন্য মাস্টার প্ল্যানের কথা শোনা গিয়েছিল সুমনের মুখে। সেটার বাস্তবায়ন হয়নি। সুমন বলেন, সেচ দপ্তরের থেকে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগেও সার্ভে হয়েছে। জলস্তর কোনদিকে বেশি, কোনদিকে কম সেটা দেখা হয়েছে। জঙ্গল কোনদিক দিয়ে বের করা যাবে সেটাও দেখেছে সেচ দপ্তর। শুধু শহরের কাজ হয়েছে এমন নয়, আরও কাজ হয়েছে।
আবার আরেকটি বর্ষা আসার সময় হয়ে আসছে। শহরে জলাশয় বুঝিয়ে নির্মাণ, অবৈধ নির্মাণ নিয়ে সরব হলেও তৃণমূলের এসেও সেটা বন্ধ করতে পারেনি সুমন। শহরের ছবি এখনও বদলায়নি। প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুরসভা বোর্ড গঠন করেছে তৃণমূল। তবে তারাও সেই সমস্যা ঠেকাতে পারেনি বলেই অভিযোগ। এনিয়ে পুর চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর দখলদারির বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘কোনও জলাশয় দখল হয়নি। উপরন্তু আমরা জলাশয়ের সংস্কার করেছি। তার জলজ্যান্ত উদাহরণ ১৭ ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের জলাশয় সংস্কার।’ শেষ পুরভোট হয়েছে ২০২২ সালে। সেসময় পুরভোটের মুখে শাসকদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সাধারণের কাছে। তবে ব্যাবসায়ী থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন এলাকায় জবরদখল থেকে শুরু করে পার্কিং সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, রাস্তাঘাট, চুক্তি অনুযায়ী গ্রামীণ এলাকা থেকে বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ এমনকি বর্ষাকালে নদীভাঙন ও অল্প বৃষ্টিতে জল জমে যাওয়ায় মতো সমস্যা থেকে সাধারণ মানুষ রেহাই পায়নি।
শহরের একমাত্র বিরোধীদলের কাউন্সিলার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শান্তনু দেবনাথ। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জিতলেও এখনও ওই ওয়ার্ডে বর্ষায় জল জমার সমস্যা, রাস্তার সমস্যা মেটেনি। এ নিয়ে শান্তনু বলেন, ‘এলাকায় ড্রেনেজ সহ রাস্তাঘাট ও অল্প বৃষ্টিতে জল জমে যাওয়া নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে সরব হয়েছি। তবে অধিকাংশ হলেও বাকি কাজ টেন্ডার সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় আটকে আছে।’ সব মিলিয়ে কথা দিলেও সেটা রাখতে গিয়ে যে সব দলের নেতারাই ব্যর্থ সেটা স্পষ্ট হয় বারবার।
