আলিপুরদুয়ার: কয়েকদিন আগেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে। এমনকি রাজ্যের শাসকদল ভাষা আন্দোলন চালাচ্ছে ওই ঘটনাগুলোর প্রতিবাদে। সেই পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবনযুদ্ধের গল্প বলবে আলিপুরদুয়ার শহরের সুতলিপট্টির এবছরের দুর্গাপুজোর মণ্ডপ। সমাজের শ্রমিকশ্রেণির জীবনযাত্রা থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। পুজোর উদ্যোক্তাদের আশা, এবছর পুজোর অন্যরকম থিম দর্শনার্থীদের নজর টানবে।
রামরূপ সিং রোড (সুতলিপট্টি) দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় সরকারের কথায়, ‘এবছরের আমাদের পুজোর থিম মানুষকে ভাবাবে। মণ্ডপে মানুষ এসে সময় কাটাবে।’ এবার ৬৩তম বর্ষে তাঁদের দুর্গাপুজো। ভিনরাজ্যে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা কীভাবে কাজ করেন। সেটা তুলে ধরা হবে।
কাজের ফাঁকে মণ্ডপসজ্জার শিল্পী ঋতম সরকার বলেছিলেন, ‘সাধারণ শ্রমিক ও পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের বিশেষত্ব রয়েছে। যেমন সাফাইকর্মীর কাজ শুরু হয় সকাল ছ’টায়, রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন সকাল ন’টায়। এরকম বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে যে ওই শ্রমিকদের কাজ শুরু হয় সেটা তুলে ধরা হবে।’
মণ্ডপে ঢোকার আগেই রাস্তায় আটটি বড় মডেল থাকবে ওই বিষয়ের ওপর। পাশাপাশি কয়েকমাস আগে কোর্টের নির্দেশে যে টানা রিকশা চালানো বন্ধ করতে বলা হয়েছে, সেটার প্রতীক হিসেবে মূল মণ্ডপে ঢোকার মুখে দুটো বড় টানা রিকশা এবং রিকশাচালকদের দেখানো হবে। মূল মণ্ডপের বাইরের অংশ তৈরি হবে নৌকার আদলে। সেখানে দেখানো হবে নৌকা টেনে কীভাবে শ্রমিকরা নদীর তীরে আসেন।
মণ্ডপের ভিতরে ৮০ রকমের শ্রমিকদের ছবি থাকবে। পাশাপাশি, বর্তমান সময় শ্রমিকদের সঙ্গে যে যন্ত্রের প্রতিযোগিতা সেটাও তুলে ধরা হবে। শ্রমিকদের বিভিন্ন ধরনের কাজ থেকে শুরু করে, বিভিন্ন সময় বোঝানোর জন্য ঘড়ি বানানো সবই হচ্ছে সুতলিপট্টি মন্দিরে। বেশিরভাগ কাজই হচ্ছে প্লাই দিয়ে। প্লাইয়ের উপর রং করার কাজ চলছে। পুজোর উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, পুজোর বাজেট ২০ লক্ষ টাকার মতো। যেটার বেশিরভাগ খরচ হবে মণ্ডপে।
অন্যদিকে, মণ্ডপের থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলোকসজ্জা ও প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। প্রতিমা তৈরি হচ্ছে শ্রমিকদের থিমের ওপরই। সেখানে দেবী দুর্গাকে দেখানো হবে ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে। মূর্তিতে দেখা যাবে কোলে গণেশকে নিয়ে মাথায় ইট নিয়ে যাচ্ছে দুর্গা। আর তাঁর আঁচল ধরে আসছে কার্তিক, লক্ষ্মী, সরস্বতী। অসুরকে আবার দেখানো হবে পাথর ভাঙার শ্রমিক হিসেবে। শহরের বিগ বাজেটের পুজোগুলোর সঙ্গে টেক্কা দিতে এই পুজো কমিটির এবছরের বাজি শ্রমিকদের কথা।
