সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: বৃষ্টি হলেই আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়কে জলকাদা জমে। এই সমস্যা নতুন বিষয় নয়। তবে এবার মহাসড়কের দু’ধারে নির্মীয়মাণ সার্ভিস রোডেও জমতে শুরু করেছে বৃষ্টির জল। ক’দিন থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। এতে মহাসড়কের কাজেও গতি কমেছে৷ এদিকে, সার্ভিস রোডের কাজও সব জায়গায় এখনও সম্পন্ন হয়নি। সার্ভিস রোডের এক পাশে যেমন মহাসড়কের রাস্তা, অপর পাশে তৈরি হচ্ছে বড় নিকাশিনালা। সেই নালার কাজও অর্ধসমাপ্ত। এই অবস্থায় যেখানে মাটির কাজ কম হয়েছে সার্ভিস রোডের সেইসব এলাকায় হাঁটুসমান জল জমছে। অনেকেই জল ডিঙিয়ে বাড়ি থেকে রাস্তায় উঠতে বিপাকে পড়ছেন।
যদিও মহাসড়কের সাইট ইঞ্জিনিয়ার নকুল রাভার বক্তব্য, ‘সার্ভিস রোড ও নর্দমার কাজ একসঙ্গেই চলছে। নর্দমার কাজ সম্পন্ন হলেই জল কোথাও জমে থাকবে না। আর সার্ভিস রোডে আরও জায়গায় জায়গায় মাটিও ফেলা হবে। যেখানে সার্ভিস রোড ইতিমধ্যে উঁচু হয়েছে সেখানে কিন্তু এভাবে জল জমে নেই।’
সোমবার সার্ভিস রোডের মধ্যে বৃষ্টির জল জমে থাকতে দেখা যায় নিউ পলাশবাড়ি, পুঁটিমারি মোড়, মেজবিল, শিমুলতলা, নিউ রোড, রাইচেঙ্গা, সাইনবোর্ড এলাকায়৷ এইসব এলাকায় পাকা রাস্তার কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। দু’পাশে পাকা রাস্তা তৈরিও হয়েছে। তাই এসব জায়গায় সার্ভিস রোড ও বড় নর্দমারও কাজ চলছে। কিন্তু এবার বৃষ্টি থামার যেন লক্ষণই নেই। কখনও মাঝারি, কখনও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য রাস্তা, সার্ভিস রোড ও বড় নর্দমারও কাজ থমকে যাচ্ছে। রবিবার রাতে ভারী বৃষ্টি হয়। সেই বৃষ্টির জল জমে যায় সার্ভিস রোডে। মেজবিলের প্রদীপ বর্মনের বাড়ি রাস্তার পাশেই। তাঁর কথায়, ‘রাস্তার কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অসুবিধা হচ্ছিল। এখন তো সার্ভিস রোডেও হাঁটুসমান জল৷ বাড়ি থেকে বের হয়ে বড় নর্দমার পর সার্ভিস রোড হয়ে মহাসড়কে উঠি। এক্ষেত্রে এখন জল ডিঙিয়ে মূল রাস্তায় ওঠানামা করতে হচ্ছে। বাইক, সাইকেল নিয়ে তো রাস্তায় ওঠাই যাচ্ছে না।’
নিউ পলাশবাড়ি ও পুঁটিমারি মোড়ের মাঝামাঝি বেশকিছু বাড়ির সামনের সার্ভিস রোড যেন নদীতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সুকুমার বর্মনের কথায়, ‘সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি সার্ভিস রোডে প্রচুর জল জমে আছে। একেবারে বাড়ির সামনেই এই পরিস্থিতি। এই জল কোনওভাবে বের হতে পারছে না। নর্দমা তৈরি হয়েছে। কিন্তু নর্দমায় সেই জল যেতে পারছে না।’ আরেক বাসিন্দা দীপক সরকারের কথায়, ‘মহাসড়ক নিয়ে তো ভোগান্তির শেষ নেই। এবার বর্ষার আগের বৃষ্টিতেই মহাসড়কে ওঠানামার জন্য সার্ভিস রোডের হাঁটুসমান জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দ্রুত পর্যাপ্ত মাটি ফেলে এই সার্ভিস রোড উঁচু করা হোক। নর্দমার সঙ্গে জল বয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। তা না হলে বর্ষায় বাড়ি থেকেই বের হতে পারব না৷’
