ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: বালাতোর্ষা নদীর ওপর মাটি ফেলে বুজিয়ে দিয়ে দখল করার অভিযোগ তো আগেই উঠেছিল। এবার অভিযোগ উঠল একটি নালা দখলের। ধূপগুড়ি মোড় থেকে ফালাকাটা কলেজ যাওয়ার মূল রাস্তার পাশে, কলেজপাড়ায় রয়েছে সেই বিশাল নালা। স্থানীয়রা একে বলেন দোলা। সেই দোলার ওপর নজর পড়েছে জমি হাঙরদের। তা বুজিয়ে সেখানে কংক্রিটের নির্মাণ বানানো হচ্ছে দিব্যি।
মরা মুজনাই নদী থেকেই দোলাটির উৎপত্তি। এরপর ফালাকাটার (Falakata) কলেজপাড়া দিয়ে তা বয়ে গিয়েছে। এই দোলাটির মূল অংশ আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) পশ্চিম ফালাকাটার পেছন দিক দিয়ে গিয়ে মুজনাই নদীতে পড়েছে। পশ্চিম ফালাকাটার বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির জল নিকাশের এটিই মূল ভরসা। বর্ষার সময় এই দোলাই জলে পরিপূর্ণ থাকে। অন্য সময় অবশ্য শুখা। এই শুখা সময়ের সুযোগ নিয়ে কলেজপাড়া ও পশ্চিম ফালাকাটাজুড়ে দোলার ওপর বানানো হয়েছে কংক্রিটের নির্মাণ। পুরসভা আগে এই অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে নোটিশও করেছিল। তাতে কেউ পাত্তাও দেয়নি।
ফালাকাটা পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ মুহুরি বলেন, ‘পশ্চিম ফালাকাটা ও কলেজপাড়ার দোলা দখল করে বেশ কিছু অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ আমরা পাই। তারপরেই নির্মাণকারীদের নোটিশ ধরানো হয়। কিছু কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কেউ ফের নির্মাণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, পুরসভা নোটিশ দেওয়ার পরেও অবৈধ নির্মাণকারীরা দিব্যি সক্রিয় ছিল। এখন কার্গিল মোড় থেকে ফালাকাটা কলেজে যাওয়ার পথে দ্বিতীয় সেতু থেকে দু’দিকে তাকালেই অবৈধ নির্মাণগুলি চোখে পড়বে। পশ্চিম ফালাকাটায় দোলা দখল করে বড় বড় গোডাউন বানানো হয়েছে। কেউ গাড়ির গ্যারাজ তো কেউ আবার বসতবাড়িও বানিয়েছেন। এইসব অবৈধ নির্মাণকারীরা এলাকায় বেশ প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। প্রত্যেকেই আবার শাসকদলের সঙ্গে লতায়পাতায় জড়িয়ে। কলেজডাঙ্গা যাওয়ার রাস্তায় দোলার ওপর সেতু আছে। ওই ব্রিজের বাম পাশে কয়েকজন রীতিমতো ট্র্যাক্টর-ট্রলি দিয়ে মাটি এনে ভরাট করেছেন। দোলা। সেখানে এখন বহুতল বানানোর কাজ শুরু হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা প্রতাপ সরকার বলেন, ‘বর্ষার সময় গোটা কলেজপাড়া, কলেজডাঙ্গার জল এই দোলা দিয়েই বয়ে যায়। ফলে এলাকায় জল জমার হাত থেকে বাঁচি আমরা। কিন্তু গত এক বছর ধরে চোখের সামনে দোলার বিভিন্ন জায়গা দখল হয়ে গেল। সেখানে পাকা বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। এবার বর্ষার জল কোনদিক দিয়ে বের হবে?’
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অনেকেই এই দোলা থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকে দোলার জল দিয়ে চাষাবাদও করেন। কিন্তু পুরসভা গঠিত হওয়ার পর এলাকায় জমির দাম বেড়েছে। আর তারপরেই এই দোলার ওপর নজর পড়েছে জমি মাফিয়াদের। দোলার বিভিন্ন অংশে দখল করে বিক্রি হচ্ছে। আপাতত সেই দোলাজুড়ে পঞ্চাশটির বেশি অবৈধ নির্মাণ রয়েছে।
এলাকার এক গৃহবধূ বলেন, ‘যখন দোলা দখল করে গোডাউন, টাওয়ার বসানোর কাজ চলছিল, আমরা বাধা দিই। কিন্তু ওরা প্রভাবশালী। আমাদের এক প্রকার ভয় দেখিয়ে নির্মাণগুলি করেছে। প্রশাসনও বিষয়টি জানে। পরে আমরা আর কিছু বলার সাহস পাইনি।’
বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, এবার বর্ষার আগেই নির্মাণগুলি ভেঙে দিক পুরসভা। তাঁদের আশঙ্কা, পুরসভা ও প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পশ্চিম ফালাকাটা ও কলেজপাড়া এই বর্ষায় একটু ভারী বৃষ্টি হলেই জলে ভাসবে।
