রাজু সাহা, শামুকতলা: স্বামী অত্যাচার চালাচ্ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। সহ্য করে নিচ্ছিলেন নিগৃহীতা মহিলা। কিন্তু তাঁদের নাবালিকা কন্যার ওপর স্বামীর কুনজর পড়াকে আর মেনে নিতে পারেননি তিনি। সহ্য করতে না পেরে প্রতিবাদ করায় ওই মহিলাকে বেধড়ক মারধর করেন স্বামী। এরপরই শামুকতলা(Alipurduar) থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন ওই কিশোরীর মা। অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে শামুকতলা থানার পুলিশ। শনিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।
শামুকতলা থানার প্রত্যন্ত গ্রামের এই ঘটনায় রীতিমতো হতবাক এলাকার বাসিন্দারা। ধৃত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। নির্যাতিতা মহিলা জানিয়েছেন, ১৬ বছরের মেয়ের ওপর তারই বাবা কুনজর দিচ্ছিলেন। নানাভাবে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালাচ্ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার ওপর চলা অত্যাচার সহ্য করেও সংসার করছিলাম। কিন্তু নিজের মেয়ের প্রতি এই আচরণ আমি সহ্য করতে পারিনি। প্রতিবাদ করায় আমাকে প্রচণ্ড মারধর করেছেন। এরপরই আমি পুলিশের দ্বারস্থ হই। এমন জঘন্য মানুষের সঙ্গে সংসার করা যায় না। আমি চাই ওঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
এ ব্যাপারে শামুকতলা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দে বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছি। ওই কিশোরীর কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। নির্যাতিতা মহিলা এবং তাঁর মেয়ে যাতে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন, আমরা দেখব।’
আলিপুরদুয়ার-২(Alipurduar) পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ঝুমা দাস দেবনাথ বলেন, ‘এই ঘটনা কোনওভাবে মানা যায় না। অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তি চাই। ওই কিশোরীর খোঁজ নেব।’
আলিপুরদুয়ার ‘মানবিক মুখ’-এর সম্পাদক রাতুল বিশ্বাস বলেন, ‘এমন ঘটনা যে বাবা করতে পারেন, তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। ওই পরিবারের পাশে আছি।’
