Alipurduar | নষ্ট আড়াইশো একর সুপারি বাগান, সাড়ে সাত কোটির ক্ষতির আশঙ্কা

Alipurduar | নষ্ট আড়াইশো একর সুপারি বাগান, সাড়ে সাত কোটির ক্ষতির আশঙ্কা

শিক্ষা
Spread the love


সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: ডলোমাইট মেশানো পলি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হল সুপারি বাগান। জলদাপাড়া বনাঞ্চল লাগোয়া আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-১ ব্লকের শালকুমারহাট এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল সুপারি। গত ৫ অক্টোবরের ভয়াবহ দুর্যোগে গোটা এলাকা জলে ভেসে গিয়েছিল। এর ফলে বিঘার পর বিঘা সুপারি বাগানে জলের সঙ্গে ডলোমাইট মেশানো পলি ঢুকে পড়ে। এমনকি জল ও কাদার ধাক্কায় কিছু সুপারি গাছ ভেঙেও গিয়েছিল। কৃষকদের হিসাবে, শালকুমার-১ ও শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় আড়াইশো একর সুপারি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনও বাগানে পলির স্তর জমে রয়েছে। কৃষি দপ্তর অবশ্য ইতিমধ্যেই এবিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। তবে এত বড় আর্থিক ক্ষতি এলাকার সার্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

কৃষকরা জানাচ্ছেন, দুর্যোগের কয়েকটা দিন পর থেকেই তাঁরা লক্ষ্য করেছেন সুপারি গাছ মরে যাচ্ছে। এব্যাপারে গত ১১ অক্টোবর শনিবার তিন কৃষি বিজ্ঞানী শালকুমারহাট এলাকার চাষের জমির মাটির নমুনা সংগ্রহ করেন। বিজ্ঞানীদের সঙ্গে ছিলেন জেলার কৃষি উপ অধিকর্তা (প্রশাসন) সর্বেশ্বর মণ্ডল। সুপারি চাষের ক্ষতি নিয়ে সর্বেশ্বর বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সকল কৃষক যাতে ক্ষতিপূরণ পান তার জন্য সবরকমের চেষ্টা করা হচ্ছে। সুপারি বাগানের মাটির নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্যান পালন দপ্তরকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

এদিকে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতও প্রাথমিকভাবে সুপারি চাষের ক্ষতি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এনিয়ে শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শ্রীবাস রায়ের বক্তব্য, ‘বন্যাবিধ্বস্ত গ্রামগুলিতে প্রায় আড়াইশো একর অর্থাৎ সাড়ে সাতশো বিঘা সুপারি বাগানে ডলোমাইটের পলি ঢুকেছে। এক বছরে প্রতি বিঘায় এক লক্ষ টাকার সুপারি বিক্রি হলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকায় পৌঁছাবে। এতে এলাকার চাষিদের মেরুদণ্ডই ভেঙে পড়বে।’ শালকুমারহাটের সুপারি উন্নতমানের৷ এলাকার প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে সুপারি বাগান। তবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে শিসামারা নদীর জল নেপালিবস্তি, নতুনপাড়া, মুন্সিপাড়া, প্রধানপাড়া ও সিধাবাড়ি গ্রামে ঢুকে পড়ে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, এক বিঘা জমিতে প্রায় আড়াইশো সুপারি গাছ থাকে। প্রতি বছর মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে সুপারির ফলন হয়। প্রতি বিঘা জমি থেকে বছরে প্রায় এক লক্ষ টাকার সুপারি বিক্রি হয়।

দিলীপ বর্মন নামে এক ব্যক্তির নতুনপাড়া গ্রামে পাঁচ বিঘা জমির সুপারি বাগান রয়েছে। হতাশ গলায় দিলীপ বললেন, ‘এখন সুপারি গাছে ফল ধরেছে। কিন্তু ডলোমাইটের পলির প্রভাবে গাছ মরে যেতে শুরু করেছে। ফলও ঝরে পড়ছে। তাই এবার আদৌও সুপারি বিক্রি করতে পারব কি না সন্দেহ। আমরা চাই, আমাদের এর ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।’ অন্যদিকে নেপালিবস্তিতে ১০ বিঘা বাগানের মালিক রুদ্রমায়া অধিকারীর সংসার চলে সুপারি বিক্রির টাকায়। মুন্সিপাড়ার কৈলাস কার্জিরও সাত বিঘা জমিতে ডলোমাইটের পলি জমেছে। কৈলাস জানান, প্রতি বিঘা সুপারি বাগান করতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমি তো ফল বিক্রিই করতে পারলাম না৷ খরচের টাকাটাই জলে চলে গেল।’ এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা বিশেষজ্ঞদের থেকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সুপারি গাছকে রক্ষা করার পরামর্শও চেয়েছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *