Alipurduar | তৃণমূলে এবার ন্যূনতম স্নাতক উত্তীর্ণদের প্রার্থীপদে অগ্রাধিকার

Alipurduar | তৃণমূলে এবার ন্যূনতম স্নাতক উত্তীর্ণদের প্রার্থীপদে অগ্রাধিকার

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


আলিপুরদুয়ার: বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। তবে তার প্রস্তুতি যেন এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আলিপুরদুয়ারে বিধানসভা ভোটে আপাতত তৃণমূলের প্রার্থীপদে তিন থেকে চারজনের নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে তা দলের কর্মীরা বিশ্লেষণ করছেন। তবে এবার খোদ দল সূত্রেই খবর, তৃণমূলের এবার যারা বিধানসভায় প্রার্থী হবেন, তাঁদের ন্যূনতম স্নাতক উত্তীর্ণ হতে হবে। মূলত বিজেপির ‘শিক্ষিত’ প্রার্থীদের আটকাতেই ‘স্নাতক উত্তীর্ণ’ ডিগ্রি বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমের আলোচনাও হয়েছে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নয় শাসকদলের নেতারা।

কিন্তু হঠাৎ করে বিধায়ক প্রার্থীপদে ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক উত্তীর্ণর কেন খোঁজ চলছে? দল জানিয়েছে, এর পেছনে নাকি রয়েছে বিজেপির বর্তমান বিধায়কদের শিক্ষাগত যোগ্যতা। যে যোগ্যতার ধারেকাছেও ছিল না ২০২১ সালের ভোটের তৃণমূল প্রার্থীরা। যার খেসারত ভোটের রেজাল্টে দিতে হয়েছিল।

যদিও তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি প্রকাশ চিকবড়াইক বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘কোন যোগ্যতার, কারা কীভাবে প্রার্থী হবেন সেটা আমাদের জানার কথা নয়। গোটা বিষয়টিই দেখেন আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যাঁকেই প্রার্থী করবেন, তাঁকে নিয়েই আমরা ভোটে লড়ব।’

তৃণমূল জানিয়েছে, ২০২১ সালে কুমারগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হয়ে বিধায়ক হন মনোজ ওরাওঁ। মনোজ হাইস্কুল শিক্ষক। সেখানে তৃণমূলের হয়ে লড়েছিলেন লুইস কুজুর। তিনি বিএ পাশ। পেশায় সমাজসেবী। আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল প্রার্থী সৌরভ চক্রবর্তীর ডক্টরেট ডিগ্রি রয়েছে। আলিপুরদুয়ারে বিজেপি বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএএলএলবি।

কালচিনিতে সেবার বিজেপি প্রার্থী হন বিশাল লামা। পরে তিনি বিধায়কও হন। তিনি বিএ পাশ। বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি করেন তিনি। এখানে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন সদ্য প্রয়াত পাশাং লামা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল মাধ্যমিক। ফালাকাটার বর্তমান বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি ইংরেজিতে এমএ, বিএড। এখানে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন সুভাষ রায়। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছিলেন মাধ্যমিক। পাশাপাশি মাদারিহাটের বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এখানে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন রাজেশ লাকড়া। তিনি মাধ্যমিক পাশ।

২০২১ সালের দুই দলের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশা দুটি বিষয় নিয়েই তৃণমূল বিশ্লেষণ করেছে। রাজ্য নেতৃত্ব নাকি বুঝতে পেরেছে দুটি ক্ষেত্রেই বিজেপি প্রার্থী এগিয়ে ছিলেন। একুশ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তাই ছাব্বিশের ঘুঁটি সাজাতে চাইছে তৃণমূল।

তৃণমূলের জেলার এক সাধারণ সম্পাদক বললেন, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা একটা বড় ইস্যু। স্কুল-কলেজের পরিচালন কমিটিতে আসতে গেলেও ন্যূনতম স্নাতক হতে হয়। কিন্তু আমাদের আগের বিধায়ক প্রার্থীদের বেশিরভাগই স্নাতক ছিল না।’

যদি ছাব্বিশের বিধানসভায় ন্যূনতম স্নাতক উত্তীর্ণদের প্রার্থী করা হয় তাহলে গতবারের বেশিরভাগ প্রার্থীই টিকিট পাবেন না। বিশেষ করে যারা মাধ্যমিক পাশ তাদের টিকিট পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত। তবে দলের একটি অংশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে জেলার ৫টি বিধানসভা থেকেই অন্তত ৪ জন করে প্রার্থী পদের দাবিদারদের নাম এখন আলোচনা হচ্ছে। সেখানে আবার অনেক নতুন নামও সংযোজন হচ্ছে। ওই নামগুলি নিয়ে ভেতরে ভেতরে রাজ্য থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *