Alipurduar | টিকিট কেটে ঠাকুর দেখায় বিতর্ক

Alipurduar | টিকিট কেটে ঠাকুর দেখায় বিতর্ক

ব্লগ/BLOG
Spread the love


আলিপুরদুয়ার: ৫০ টাকা দিলেই আপনি ভিআইপি! মণ্ডপে ঢুকে ঠাকুর দেখতে আর লাইন দিতে হবে না। সিধে ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকে পড়তে পারবেন। টিকিট কেটে ঠাকুর দেখা? আলিপুরদুয়ারের সাউথ স্পোর্টিং ক্লাবের কালীপুজোর মণ্ডপ দর্শনের এই ‘উদ্যোগ’ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে শহরে।

জংশন এলাকার ওই ক্লাবের এবছরের থিম রহস্যময় ভূতের মণ্ডপ। তা দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড়ও করছেন। কিন্তু থিম নয়, এই পুজো নিয়ে চর্চা হচ্ছে সম্পূর্ণ একটি অন্য কারণে। ট্যাঁক থেকে ৫০ টাকা খসালেই লম্বা লাইনের ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে না। একদম সোজা পৌঁছে যাওয়া যাচ্ছে মণ্ডপে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শহরজুড়ে চলছে জোর আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। হচ্ছে ট্রোলও। অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন সাউথ স্পোর্টিং ক্লাবের সম্পাদক শিবনাথ দাস। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের খবর আমাদের জানা নেই। শুধুমাত্র ক্লাবের সদস্য এবং যাঁরা ডোনেশন দিয়েছেন তাঁদের জন্য মণ্ডপে প্রবেশের আলাদা ব্যবস্থা আছে। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে মণ্ডপে প্রবেশের জন্য টাকা নেওয়ার প্রশ্নই নেই।’

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কালীপুজোর পরদিন থেকেই ক্লাবের পক্ষ থেকে মণ্ডপের মূল প্রবেশপথের পাশে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে আলাদা প্রবেশপথ করা হয়েছে। নাম ভিআইপি প্রবেশপথ। এই পথ দিয়ে প্রবেশের জন্য ক্লাবের তরফে ৫০ টাকার বিনিময়ে পাস বিক্রি করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এই ভিআইপি পথের ওপর একটি সাইনবোর্ডও ঝোলানো আছে। তাতে লেখা বিশেষভাবে সক্ষম এবং শিশুরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন। বুধবার সাউথ স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো দেখতে এসেছিলেন মৃন্ময় কুণ্ডু। তিনি দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এতক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে অসুবিধা হওয়ায় তিনি পাস কিনতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, ‘আলিপুরদুয়ার শহরে প্রথম এই ব্যবস্থা দেখলাম। ৫০ টাকা দিলেই কি না ভিআইপি! প্রথমে ভেবেছিলাম না দেখেই চলে যাব। তবে বাচ্চার আবদারে বাধ্য হয়েই টাকা দিয়ে টিকিট কেটে প্রবেশ করি।’

এই ব্যবস্থার সমালোচনা করে সোমরাজ দাস নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘একেই বলে সুযোগের সদ্ব্যবহার। পাসের মূল্য ১০০ টাকা করলে আরও ভালো হত।  গাড়ি নিয়ে মণ্ডপে ঢুকতে পারতাম। যাই হোক কমিটির কাছে আবেদন করব পরের বার যেন পাসের মূল্য আরও বাড়ানো হয়।’

সাউথ স্পোর্টিং অভিযোগ অস্বীকার করলেও এই ঘটনা নিয়ে টিপ্পনী কাটার সুযোগ ছাড়ছে না শহরের অন্যান্য ক্লাব। শান্তিদূত কুয়ারপার ক্লাবের সভাপতি সুজয় দেব রায় বলেন, ‘আমরাও সাধ্যমতো আমাদের ক্লাবের পুজোকে বড় করার চেষ্টা করছি। তবে পুজো যতই বড় হয়ে যাক না কেন সাধারণ মানুষ এবং ভিআইপি নিয়ে ভেদাভেদ কোনওদিন আমাদের ক্লাবে হতে দেব না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *