Alipurduar | জেলা হাসপাতালে দেড় মাস পর মেলে আল্ট্রাসনোগ্রাফির সুযোগ

Alipurduar | জেলা হাসপাতালে দেড় মাস পর মেলে আল্ট্রাসনোগ্রাফির সুযোগ

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার : শনিবার আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিভাগে চিকিৎসকের কাছে এসেছিলেন উত্তর জিৎপুরের বাসিন্দা শর্মিলা বর্মন। বেশ কয়েকদিন থেকে যে সমস্যায় ভুগছেন সেটা জানাতেই চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেন। টিকিট কাউন্টারে এসে সেই বিষয়টি জানাতেই সেখানের কর্মীরা টিকিটে লিখে দেন আগামী ২৯ জানুয়ারি আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে আসতে হবে। ক্যালেন্ডারের হিসেব ধরলে প্রায় দেড় মাস পর। ‘রোগ হয়েছে এখন আর পরীক্ষা হবে দেড় মাস পর? টিকিট কাউন্টারের বাইরে দাঁড়িয়ে এইরকম প্রশ্নই করছিলেন মাঝবয়সি ওই মহিলা। দিব্যা রায় নামে আরেক মহিলাও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ মতো টিকিট কাউন্টারে এলে তাঁকেও ২৯ জানুয়ারি আসতে বলা হয় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে।

শুধু শর্মিলা বা দিব্যা নয়, জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা সবারই আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিভাগ নিয়ে অভিজ্ঞতা একইরকম। হাসপাতালে ওই পরিষেবা পেতে গেলে এক থেকে দেড় মাস অপেক্ষা করতেই হয়। আউটডোরে আসা রোগীদের জন্য তো এই সময়ই লাগে। তবে ইনডোরে যে রোগীরা ভর্তি হন তাঁদের জরুরিভিত্তিতে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করিয়ে দেওয়া হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিভাগে এই এতটা সময় লাগার পিছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে রোগীর চাপ। হাসপাতালের কর্মীরা বলছেন, এত রোগীর চাপ থাকে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর লাইন দিনদিন বাড়ছে।

এদিন এ নিয়ে হাসপাতালের সুপার ডাঃ পরিতোষ মণ্ডল বলেন, ‘আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে দেরি হয় এটা সত্যি। এতে কিছু করার নেই। এতটাই চাপ রোগীদের। সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রে ওই সময় লাগে। তবে কোনও রোগীর বিশেষ প্রয়োজন হলে জরুরিভিত্তিতে আগে করে দেওয়া হয়।’

হাসপাতালের একটি রেজিস্টার রয়েছে আল্ট্রাসনোগ্রাফি রোগীদের। প্রতিদিন সেখানে রোগীদের তালিকা তৈরি করা হয়। রোগীদের এতটাই ভিড় হয় যে এতদিন ধরে ওই তালিকা জমে দেড় মাস বাড়তি সময় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সময় বিভিন্ন চেষ্টা করেও নাকি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, ‘জেলা হাসপাতালে আরেকটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইউনিট শুরু করলে এই সমস্যা মিটতে পারে।’ তবে সেটা করা হবে কি না সেই নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। কেননা শুধু আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্র যে প্রয়োজন হবে এমনটা নয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কর্মীদের প্রয়োজনও হবে আরেকটি ইউনিট চালু করলে।

তবে হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে দেড় মাস সময় লাগায় অনেক রোগীরই সমস্যা হচ্ছে। অনেকে আবার বেসরকারি ল্যাবগুলো থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করিয়ে নিচ্ছেন। সাধারণ আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে ১২০০-২০০০ টাকা খরচ হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে সেটা ৪০০০ টাকা পর্যন্তও যায়। হাসপাতালে যতদিন পর আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর সময় দেওয়া হয় ততদিনে রোগীর হয় রোগ সেরে যায়, নয়তো বেসরকারি ল্যাব থেকে রোগী আল্ট্রাসনোগ্রাফি করিয়ে নেন। এদিন এই নিয়ে যেমন হাসপাতালে আসা এক রোগী সৈকত দাস বলছিলেন, ‘আল্ট্রাসনোগ্রাফি তো কোনও জটিল সমস্যার অনুমান হলেই চিকিৎসকরা করতে বলেন। সেটা করাতে যদি দেড় মাস সময় অপেক্ষা করতে হয় সেটা তো আরেক সমস্যা। এতদিনে রোগের কী হবে ঠিক নেই। তাই অনেকে বেসরকারি ল্যাবে করিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *