আয়ুষ্মান চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার : তিনজনের স্বপ্ন, দেশরক্ষার জন্য স্থলসেনায় যোগ দেওয়া। ক্যারাটে শিখতে শিখতে গড়ে ওঠে খেলার প্রতি ভালোলাগা। সদ্য শেষ হওয়া ৬৯তম স্টেট স্কুল গেমস (ক্যারাটে)-এ উত্তরবঙ্গের তিন কৃতী- অনুষ্কা শর্মা, রুমি এক্কা ও অমিত সাহা স্বর্ণপদক জিতে স্কুল স্তরের জাতীয় প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। সম্ভবত ডিসেম্বর নাগাদ জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন হবে। শনিবার এই ‘তিনমূর্তি’ কলকাতা থেকে ফিরল সোনা জিতে। রবিবার থেকে জোরকদমে জাতীয় প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করে দেবে ওরা।
মা চাইতেন, বিপদে পড়লে যেন আত্মরক্ষা করতে পারে মেয়ে। তাই সাড়ে চার বছর বয়স থেকে ক্যারাটে শেখা শুরু করেছিল মাঝেরডাবরি চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান রুমি এক্কা। ধীরে ধীরে ক্যারাটে ভালো লাগতে থাকে রুমির। মন দিয়ে আরও ভালো করে শিখতে থাকে। শনিবার কলকাতা থেকে সোনা জিতে ফিরতেই মাঝেরডাবরি চা বাগান কর্তৃপক্ষ তাকে অভ্যর্থনা জানায়। সবাই খুব আনন্দিত। এখন পর্যন্ত অনেক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রচুর পুরস্কার পেয়ে পরিবারকে গর্বিত করেছে সে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী তার মা মিনা এক্কা ওরাওঁ বলেন, ‘আমাদের মেয়ে খুব ভালো ক্যারাটে করে। ইতিমধ্যে ন্যাশনালও খেলছে। এবার প্রথম স্কুল ন্যাশনালে যাচ্ছে। আশা রাখি, ভালো খেলে বাড়ি ফিরবে। দেশকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সেনায় ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে ওর। রুমি বলে, ‘দেশের হয়ে যেমন খেলি, তেমন দেশকে রক্ষা করতে চাই। অ্যাকাডেমিতে শেখার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে অনুশীলন করি।’ প্রশিক্ষক সপ্তপর্ণী চক্রবর্তী বলেন, ‘আশা করছি রুমি পদক নিয়ে ফিরবে। খুব খেটে এগোচ্ছে।’
বছর বারোর অনুষ্কা শর্মা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ৫ বছর ধরে শিখছে। মাঝে করোনার জন্য প্রশিক্ষণ বন্ধ রেখেছিল। প্রথমবার স্কুল ন্যাশনালে সুযোগ পেয়ে খুবই উৎসাহিত এই কিশোরী। নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। রাজাভাতখাওয়া গারোবস্তির অনুষ্কা ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হওয়ার জন্য ক্যারাটে শেখা শুরু করে। এখন দিনে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অনুশীলন করে। মা ইন্দিরা দেবী শর্মা গ্রাম পঞ্চায়েতে কর্মরত। সকলে তার সাফল্যে আনন্দিত। তার প্রশিক্ষক দীপ দাস বলেন, ‘মনোযোগের কারণেই এই সাফল্য।’
১১ বছরের অমিত সাহা শোভাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। ৩ বছর বয়স থেকে ক্যারাটে শেখে সে। বিশ্ব মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখে। রুমি ও অনুষ্কার মতো অমিতও সেনায় যোগ দেবে বলে জানায়। স্কুল ন্যাশনালে প্রথম সুযোগে ভালো খেলতে চায় অমিত। মা গৃহবধূ অণিমা দাস সাহাও ছেলের সাফল্যে খুশি। তিনি জানান, অমিত সারাদিন ক্যারাটে নিয়ে ভাবে আর খেলতে থাকে। প্রশিক্ষক চন্দন দেবনাথ খুব খুশি। অমিত ভালো খেলবে, আশাবাদী তিনি।
