ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার: এমনিতেই চাকরির বাজার মন্দা। যাও মাঝেমধ্যে চাকরির খবর পাওয়া যায়, সেটাও নানা মামলার জটে আটকে যায়। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরি নিয়ে তরুণসমাজের মধ্যে একটা হতাশা তৈরি হয়েছিল কিন্তু অন্ধকারের শেষেও যে আলোর উদয় হয় সেটাই এবার দেখা যাচ্ছে আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar)। যাঁরা এতকিছুর মধ্যেও দাঁতে দাঁত চেপে নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকেছেন, তাঁরা এখন ভিড় করছেন আলিপুরদুয়ারের মহকুমা শাসকের অফিসে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ‘ক্যারেকটার সার্টিফিকেট’ নিতে। আলিপুরদুয়ার জেলায় এক বছরে ৫০০ জনের বেশি তরুণ–তরুণী নতুন চাকরি পেয়েছেন। কেউ কেন্দ্রীয় সরকারের তো কেউ রাজ্য সরকারের চাকরি পেয়েছেন। চাকরি নেই বলে যখন চারদিকে এত রব উঠেছে তখন আলিপুরদুয়ারের তরুণসমাজ পথ দেখাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত প্রশাসন থেকে চাকরিপ্রাপকরা।
আলিপুরদুয়ারের মহকুমা শাসক দেবব্রত রায় বলেন, ‘‘চাকরি নেই বলে অনেকেই অনেককিছু বলেন। কিন্তু আলিপুরদুয়ার সেক্ষেত্রে পথ দেখাচ্ছে। আমার কাছে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ‘ক্যারেকটার সার্টিফিকেট’ নিতে গত এক বছরে ৫০০ জনের বেশি তরুণ-তরুণী এসেছেন। এখনও রোজ সার্টিফিকেট দিচ্ছি। মাত্র এক বছরে চাকরি পাওয়ার এটা রেকর্ড। যাঁরা চাকরির জন্য চেষ্টা করছেন, এই পরিসংখ্যান তাঁদের উৎসাহ দেবে।’’
মহকুমা শাসকের দপ্তরে রোজই ভিড় বাড়ছে। কারা ভিড় করছেন? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, যাঁরা নতুন চাকরিতে যোগ দেবেন সেই তরুণ-তরুণীরাই ভিড় করছেন। যাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলায়। এদের মধ্যে কেউ কুমারগ্রাম তো কেউ ফালাকাটার, কেউ বীরপাড়ার তো কেউ আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের। প্রশাসন সূত্রে খবর, গত বছরে ৫০০ জনের বেশি তরুণ-তরুণীকে ‘ক্যারেকটার সার্টিফিকেট’ দেওয়া হয়েছে। জেলা থেকে মাত্র এক বছরে এত বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের চাকরি পেয়েছেন। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় সরকারের সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীতেই চাকরি পেয়েছেন। কেউ সিআইএসএফ তো কেউ বিএসএফ আবার কেউ সেনাবাহিনীতে। কয়েকজন কেন্দ্রীয় সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর, স্বাস্থ্য দপ্তর এমনকি নানা মন্ত্রকেও চাকরি পেয়েছেন। বাদ যায়নি রাজ্য সরকারের চাকরিও। স্বাস্থ্য-পূর্ত সহ আরও বেশকিছু দপ্তরে চাকরি পেয়েছেন। পাশাপাশি ডব্লিউবিসিএসের বিভিন্ন ক্যাটিগোরিতেও আলিপুরদুয়ারের অনেকেই চাকরি পেয়েছেন।
সিআইএসএফের চাকরি পাওয়া সঞ্জীব বর্মনের কথায়, ‘প্রায় দুই বছর ধরে চাকরির জন্য পড়াশোনা করেছি। আমরা কয়েকজন বন্ধু একসঙ্গে চাকরি পেয়েছি। তাই মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে ক্যারেকটার সার্টিফিকেটও নিয়েছি।’
কালচিনি (Kalchini) ব্লকের সুভাষ তিরকি বলেন, ‘আমার পরিবারে আমিই প্রথম বিএসএফে চাকরি পেলাম। ইতিমধ্যেই জয়েনিং লেটার এসেছে। এখন ক্যারেকটার সার্টিফিকেট নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেব।’
