Alipurduar | ঋতব্রত ‘ভিলেন’, জানত আলিপুরদুয়ার! বহিষ্কারের পর নেতার বিরুদ্ধে সরব অনেকে

Alipurduar | ঋতব্রত ‘ভিলেন’, জানত আলিপুরদুয়ার! বহিষ্কারের পর নেতার বিরুদ্ধে সরব অনেকে

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


আলিপুরদুয়ার: প্রথমে ছিলেন ‘নয়নের মণি’। এখন হঠাৎ হয়ে গেলেন ‘ভিলেন’। তৃণমূলের তরফে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জয়ী হওয়া বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সোমবার তাঁকে দলবিরোধী কাজ করার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হল। তালিকায় রয়েছেন সন্দীপন সাহাও। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, ঋতব্রতকে দলে নেওয়া ভুল হয়েছে। তবে তিনি যে দলের জন্য ক্ষতিকর, তা আগেই জানিয়েছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলার তৃণমূল নেতারা (Alipurduar)। তবে সে সময় দলের নেতৃত্ব এ ব্যাপারে কান দেয়নি বলে এখন অভিযোগ করছেন একাধিক নেতা।

দল ঋতব্রতকে এখন বহিষ্কার করলেও তাঁর হাতে দলের শ্রমিক সংগঠনের রাশ ছিল। এছাড়া তৃণমূলে আসার পর তিনি আলিপুরদুয়ার জেলায় বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন। সেই জেলা থেকেই তাঁর নামে ভূরিভূরি অভিযোগ রয়েছে। জেলার অনেক নেতার অভিযোগ, ২০২১ সালে আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসন হারার পিছনে অন্যতম কারণ ঋতব্রতই। তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল তাঁর জন্য অনেকটাই বেড়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হয়েছে। এদিন নেতাকে বহিষ্কারের পর আরও সরব হচ্ছেন নেতারা। এই নিয়ে দলের এসসি-ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি পীযূষকান্তি রায় বলেন, ‘ঋতব্রত জেলা তৃণমূলের যে ক্ষতি করে গিয়েছে, তা এখনও মেটেনি। কোন্দল বাড়িয়েছেন। অনেক নেতাকে বিধায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। নেতাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েছেন।’

দলের সহ সভাপতি ফজলুল ইসলাম আবার বলেছেন, ‘ঋতব্রত কোনওদিন দলের ভালো চায়নি। ক্ষমতা নিজের কাছে রাখতে জেলায় নিজের দল তৈরির চেষ্টা করেছে।’ তবে এতদিন দলই যে তাঁকে মাথায় তুলেছিল, তাও স্বীকার করছেন নেতারা। সিপিএম থেকে বহিষ্কারের পর ঋতব্রতকে তৃণমূল দলে নেয়। তবে দক্ষিণবঙ্গে কাজে না লাগিয়ে তাঁকে উত্তরবঙ্গে পাঠিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলার বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২০ সাল থেকে প্রায় দুই বছর তিনি জেলায় থেকে দল চালিয়েছেন। সেই সময় দলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী থাকলেও বকলমে সব ক্ষমতা তাঁর হাতেই কুক্ষিগত ছিল। মাদারিহাটে থাকার সময় ব্লক সভাপতি সঞ্জয় লামার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা ছিল। ভোটের আগে নেতাদের পদ দেওয়া, বিধানসভার টিকিট দেওয়া নিয়ে একদিকে যেমন আইপ্যাক তৃণমূলের নেতাদের প্রলোভন দেখিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, একই কারণে দলের মধ্যে ওই নেতাকে নিয়েও ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

২০২১ সালে আলিপুরদুয়ারে খারাপ ফল হওয়ায় জেলার নেতাদের যখন গুরুত্ব কমেছে, তখন ঋতব্রতকে উলটে আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি, রাজ্যসভার সাংসদ কী করে করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ফজলুল। মাদারিহাটে বহিরাগত রাজেশ বারলা কিংবা কুমারগ্রামে হঠাৎ দলে আসা লুইস কুজুরকে প্রার্থী করা, এছাড়া আলিপুরদুয়ার আসনে সৌরভ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করা হলেও মনোরঞ্জন দে-কে প্রার্থী করার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর ওপরই। ২০২১-এ ঋতব্রত জেলা ছাড়লেও শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বে থাকায় বারবার তিনি এসেছেন। কালচিনির প্রাক্তন ব্লক সভাপতি অসীম লামা বলেন, ‘ঋতব্রত চতুর নেতা। দলের ক্ষতি করেছে। ওর এজেন্ট ছিল গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা।’ তবে গঙ্গা অবশ্য অন্য কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ঋতব্রত যত দিন জেলায় ছিলেন, তত দিন দলবিরোধী কোনও কাজ করেননি। অন্যদিকে, দলের রাজ্য সম্পাদক মৃদুল গোস্বামী এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ফোন না ধরায় ঋতব্রতেরও এ নিয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *