মাদারিহাট: আশ্বিনের আকাশ। যদিও মাঝেমাঝে মেঘ জমে বৃষ্টি হচ্ছে। আর কয়েকদিন পর পুজো। আর তার ব্যস্ততাও এখন অনেক। শেষমুহূর্তের কাজ চলছে। আর সেই ছবি দেখা গেল মাদারিহাটের দুটো পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের মধ্যে। রবীন্দ্রনগর বিবেকানন্দ ব্যায়ামাগারের দুর্গাপুজোর থিম এবার ইচ্ছেডানা। ৫৬তম বর্ষের এই পুজো মাদারিহাটের মধ্যে একটি আকর্ষণীয় পুজো হিসেবেই পরিচিত। অপরদিকে, দক্ষিণ মাদারিহাট প্রভুনগর দুর্গাপুজো এবার ৫৯তম বর্ষে। তাদের পুজোর প্যান্ডেল এবার মায়ানমারের বুদ্ধ মন্দিরের আদলে করা হচ্ছে।
রবীন্দ্রনগর বিবেকানন্দ ব্যায়ামাগারের দুর্গাপুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সতীশ মাহাতো ও প্রিয়ংকর সাহা জানালেন, এবার তাঁদের পুজোর থিম ইচ্ছেডানা। প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে বাঁশ, খড় ও মাটির হাঁড়ি দিয়ে। এগুলোর মধ্যে তৈরি করা হবে পাখির বাসা। যেখানে কৃত্রিম পাখির কলরবে মুখরিত হয়ে উঠবে পুজোর প্যান্ডেল। প্যান্ডেল তৈরি করছেন জয়দেব বিশ্বাস।
প্যান্ডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ সঞ্জিত সাহা ও বিপ্লব সাহা। জটেশ্বরের ঝুটন পাল প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন। পুজো কমিটির সভাপতি জহরলাল সাহা বললেন, ‘আলোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে পাখির উড়ে যাওয়া ও ঘরে ফেরার দৃশ্য।’ আলোর কাজ করছেন জীবন সাহা। পাশাপাশি পুজোর দু’দিন মিউজিক্যাল নাইট থাকবে বলে জানিয়েছেন সহ সভাপতি দেবাশিস সাহা। উদ্বোধনের দিন বস্ত্র বিতরণ হবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ মাদারিহাট প্রভুনগরের পুজোর প্যান্ডেল মায়ানমারের বুদ্ধ মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে বলে জানান পুজো কমিটির সম্পাদক শুভজিৎ দাস। ইতিমধ্যেই প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। তাঁদের প্যান্ডেল তৈরি করছেন শিল্পী জয়দেব বিশ্বাস।
শুভজিৎ জানান, প্রতিমা তৈরি করছেন কোচবিহারের বাপী পাল। পাশাপাশি রোশনাইয়ে ভরে উঠবে গোটা প্যান্ডেল। তৈরি করা হচ্ছে সুউচ্চ দুটি তোরণ। পুজোর দিনগুলিতে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুজো কমিটির সভাপতি শুভঙ্কর দাস বললেন, ‘পুজোর প্যান্ডেল দেখতে প্রচুর দর্শক সমাগম এবারেও হবে। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় উদ্বোধন করা হবে। মহালয়ার দিনও রয়েছে নানা অনুষ্ঠান। শোভাযাত্রা বের করা হবে।’
