Alipurduar | অবজার্ভারদের ‘উদ্বাস্তু’ দশা! আলিপুরদুয়ারে এসআইআর আধিকারিকদের আবাসন ঘিরে তুলকালাম

Alipurduar | অবজার্ভারদের ‘উদ্বাস্তু’ দশা! আলিপুরদুয়ারে এসআইআর আধিকারিকদের আবাসন ঘিরে তুলকালাম

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


দামিনী সাহা, আলিপুরদুয়ার: এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মাইক্রো অবজার্ভারদের রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে শুরু থেকেই রাজ্য সরকারের অনীহা বা আপত্তির কথা রাজনৈতিক মহলে আলোচিত, তবুও কমিশনের নির্দেশ মান্য করেই তাঁদের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব পালনে আসা সেই আধিকারিকদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে চরম অব্যবস্থার ছবি আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) সামনে এসেছে। জেলার বিভিন্ন দপ্তরে খালি ঘর খুঁজে তাঁদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও সরকারি দপ্তরের ওয়েটিং রুম, কোথাও আবার মিউজিয়াম ভবনের ওপরের তলা— এইসব জায়গাতেই তাঁদের থাকা-খাওয়া চলছে।

পরিকাঠামোর ঘাটতি এতটাই প্রকট যে, প্রশাসনিক ভবনের বারান্দায় একাধিক ব্যবহৃত গামছা ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। যেখানে সাধারণত খাতা-কলম ও কম্পিউটার নিয়ে সরকারি কাজকর্ম হয়, সেই ভবনের বারান্দায় এমন দৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে প্রশ্ন তুলছে। আলিপুরদুয়ার মহকুমা শাসকের দপ্তরে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র ধরা পড়েছে। সেখানে ঢুকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলেই ডানদিকে মহকুমা শাসকের চেম্বার, আর বাঁদিকে অপেক্ষমাণ দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ওয়েটিং রুম। গত জুন মাসে জেলার জন্মদিন উপলক্ষ্যে ঘটা করে সেই ওয়েটিং রুমেই একটি লাইব্রেরি চালু করা হয়েছিল। বিভিন্ন ভাষার বই, ছোটদের গল্প থেকে চাকরির প্রস্তুতির বই— সব মিলিয়ে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে তা প্রশংসিতও হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, অপেক্ষারত মানুষ যাতে সময়ের সদ্ব্যবহার করে বই পড়তে পারেন। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রায় ১০ ফুট বাই ১২ ফুটের ওয়েটিং রুম-কাম-লাইব্রেরি অস্থায়ী শয়নকক্ষের রূপ নিয়েছে। পড়ার টেবিল সরিয়ে সেখানে দুটি সিঙ্গল খাট রাখা হয়েছে। কাঠের বেঞ্চগুলি এখন ব্যাগপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার অস্থায়ী আলনা। বইয়ের তাকের জায়গায় এখন ব্যক্তিগত সামগ্রীর আধিপত্য। প্রশ্ন উঠছে— যে জায়গা জনসাধারণের জন্য, সেটিই কি উপযুক্ত আবাসন?

এই ঘরেই এসআইআর-এর মাইক্রো অবজার্ভাররা থাকছেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মী ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের আধিকারিক রয়েছেন। অথচ তাঁদের জন্য পৃথক টয়লেট বা ন্যূনতম আবাসিক সুবিধা নেই। মহকুমা শাসকের দপ্তরের সাধারণ বা কমন টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। যদিও সরাসরি কোনও আধিকারিক প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি, তাঁদের একজনের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ‘আমাদের যেভাবে রাখা হয়েছে, সেভাবেই রয়েছি।’ যা অনেক প্রশ্নের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ৮০ জন মাইক্রো অবজার্ভার রয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ সরকারি গেস্টহাউসে, আবার কয়েকজনকে বেসরকারি হোটেলেও রাখা হয়েছে। কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে কেন এই পরিকাঠামোহীন ব্যবস্থা, তা নিয়েই সমালোচনা বাড়ছে।

এই বিষয়ে মহকুমা শাসক দেবব্রত রায় বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব হয়েছে, আমরা করেছি। শুধু আমার দপ্তর নয়, বিভিন্ন দপ্তরের খালি ঘরে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছুজনকে সরকারি গেস্টহাউস ও বেসরকারি হোটেলেও রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, নিউ আলিপুরদুয়ারে থাকা আলিপুরদুয়ার দমনপুর পলিটেকনিক কলেজেও আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে ঘর ও টয়লেটের মান ভালো বলেই দাবি তাঁর। তবে অনেকেই সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। কেউ ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাঁদের সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে আসা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জন্য পরিকল্পিত ও সম্মানজনক আবাসন নিশ্চিত করা কি প্রশাসনের দায়িত্ব নয়?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *