আলিপুরদুয়ার: মাঝেরডাবরি চা বাগানের শ্রমিক ক্লাবের দ্বারা আয়োজিত কালীপুজোয় অংশ নেন অসুর সম্প্রদায়ের শ্রমিকরাও। এই চা বাগানে চল্লিশটিরও বেশি অসুর সম্প্রদায়ের পরিবার রয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগই চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করেন। স্বাভাবিকভাবে শ্রমিক ক্লাবের কালীপুজোতে তাঁরাও অংশ নেন।
শ্রমিক ক্লাবের এই পুজো এবছর ৬২ বছরে পা ফেলতে চলেছে। চা শ্রমিকদের চাঁদা দিয়ে এই পুজো হয়। কালীপুজো উপলক্ষ্যে তিনদিন বাগান বন্ধ থাকে। নিয়ম নির্দেশিকা মেনে পুজোর আয়োজন করা হয়। কালীপুজো উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুজো শেষে সকলের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয় বলে জানান ক্লাবের সদস্যরা। এই ক্লাবের সদস্য সঞ্জীব চিকবড়াইক বলেন, ‘বাগানের শ্রমিকদের উদ্যোগে এই পুজো হয়। বাগানের শ্রমিকরা পুজোর জন্য চাঁদা দেন। সকলে মিলে পুজোয় আনন্দ করেন এবং একসঙ্গে পুজোর প্রসাদ খান।’
সাধারণত এই অসুর সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপুজোয় অংশ না নিলেও তাঁরা কালীপুজো দেখতে যান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। এই অসুর পরিবারের প্রবীণরা জানান, এক সময় তাঁদের পরিবারের গুরুজনরা বাড়ির ছোটদের দুর্গা ও কালীপুজোয় অংশ নিতে বারণ করতেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সকলের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে পুজোয় অঞ্জলি না দিলেও পুজোর অন্যান্য কাজে অংশ নেন। সুমিত গোয়ালা নামে ক্লাবের আরেক সদস্যের কথায়, ‘চা বাগানে আদিবাসী পরিবারের লোকজনের মধ্যে অসুর সম্প্রদায়ের লোকজন রয়েছেন। তাঁরাও কালীপুজো দেখতে আসেন। এমনকি তাঁদের বাড়ির ছেলেমেয়েরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।’
দীপাবলির দিন এই অসুর সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যরা গোয়ালিপুজো করেন। বাড়ির গোরু সহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুদের পুজো করেন তাঁরা। বাড়িতে প্রদীপও জ্বালান তাঁরা। এই অসুর সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকে আবার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। তাঁরা এই পুজোয় অংশ নেন না। মাঝেরডাবরি চা বাগানের উত্তর ল্যান্ডের পঞ্চায়েত সদস্য গোবিন্দ টোপ্পো বলেন, ‘আগের ধারণা এখন অনেক বদলে গিয়েছে। অসুর সম্প্রদায়ের তরুণদের একাংশ কালীপুজোয় অংশ নেন। শিশুরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।’
মাঝেরডাবরি চা বাগানের শ্রমিক ক্লাবে গেলে দেখা যাবে সেখানে এখন জোরকদমে চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। দুপুরে কাজের ফাঁকে বাগানের শ্রমিকরা মণ্ডপ চত্বর সাফাই করছিলেন। শুধু শ্রমিকরা নন, তাঁদের সঙ্গে শিশুরাও মহানন্দে সেই কাজে হাত লাগিয়েছে।
