উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার সবথেকে বড় ধাক্কা খেল ইরান (Iran)। খামেনেই ঘনিষ্ঠ এবং ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি (Ali Larijani) ইজরায়েলি বিমান হামলায় (Israeli airstrike) নিহত হয়েছেন। তেহরানের উত্তর-পূর্বে পারদিস এলাকায় নিজের মেয়ের বাড়িতে থাকাকালীন ড্রোন বা বিমান হামলায় প্রাণ হারান তিনি। এই হামলায় লারিজানির ছেলে মোর্তেজা লারিজানি, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি আলি রেজা বায়াত এবং বেশ কয়েকজন দেহরক্ষীরও মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ইরান সরকার এই খবর নিশ্চিত করেছে।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ লারিজানির মৃত্যুকে ‘অশুভ শক্তির বিনাশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানের প্রথম সারির নেতাদের একে একে খতম করা হবে। লারিজানির পাশাপাশি ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান গোলামরেজা সোলেমানিও একই দিনের বিমান হানায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইজরায়েল। ইজরায়েলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফিপি ডেফরিন জানিয়েছেন, তাঁদের পরবর্তী লক্ষ্য ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই।
ইরানের রাজনীতিতে লারিজানি পরিবারকে আমেরিকার কেনেডি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম লারিজানির। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি রেভোলিউশনারি গার্ডে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ইরানের সংসদীয় স্পিকার এবং পরমাণু নীতি নির্ধারক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পশ্চিমি দুনিয়ার সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় ইরানের প্রধান মুখ ছিলেন তিনি।
আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও লারিজানি ছিলেন ইরানের কূটনীতি ও সামরিক কৌশলের সেতুবন্ধন। মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান কোনও হুমকিতে ভয় পায় না। কিন্তু সেই দাপুটে নেতার প্রয়াণ বর্তমানে ইরান প্রশাসনের অন্দরে বড়সড়ো ফাটল ধরাল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লারিজানির মৃত্যুতে ইরানের শাসনব্যবস্থায় যে নেতৃত্বহীনতা তৈরি হল, তা আগামী দিনে যুদ্ধ পরিস্থিতির মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।
