উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল সে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar Aircraft Crash)। বুধবার সকালে মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে তাঁর চার্টার্ড বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানের দুই পাইলট এবং পাওয়ারের দুই নিরাপত্তারক্ষী সহ মোট পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়েছে খবর (Maharashtra Deputy CM)।
সূত্রের খবর, এদিন সকাল ৮টা নাগাদ মুম্বই থেকে ভিএসআর (VSR) সংস্থার ‘লিয়ারজেট ৪৫’ বিমানে সওয়ার হয়েছিলেন ৬৬ বছর বয়সি এই নেতা। গন্তব্য ছিল নিজের নির্বাচনি গড় বারামতী। সেখানে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন উপলক্ষে চারটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু অবতরণের ঠিক ৪৫ মিনিট আগে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। জানা গিয়েছে, অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ের একদম ধারে চলে যায়। এরপরই মুহূর্তের মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা গিয়েছে, বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে। তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু হলেও কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ডিজিসিএ-র তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পওয়ার মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম ‘কিং মেকার’ ছিলেন। ২০২৩ সালে এনসিপি-তে বিদ্রোহ ঘটিয়ে এনডিএ (NDA) শিবিরে যোগ দিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। যদিও সাম্প্রতিককালে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচনে দুই গোষ্ঠীর একসঙ্গে লড়াই এবং কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে তাঁর বিবাদ মেটার জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সংসদের বাজেট অধিবেশনে ব্যস্ত থাকায় দিল্লিতে থাকা শারদ পাওয়ার ও সুপ্রিয়া সুলে খবর পেয়েই পুনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
যে মডেলের বিমানটি আজ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে, সেই একই মেক-এর বিমান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরেও মুম্বইয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। ফলে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ বা যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য সরকার ও পাওয়ার পরিবারের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
