উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অযোধ্যার (Ayodhya) রামমন্দিরে প্রণামীর টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়ের মাঝেই নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা। মঙ্গলবার অযোধ্যার রামমন্দিরে (Ram Mandir) যাওয়ার কথা ছিল উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের। কিন্তু সেই কর্মসূচি শুরুর আগেই দলের প্রদেশ সভাপতি অজয় রাইকে (Ajay Rai) ‘গৃহবন্দি’ ও পরবর্তীতে ‘গ্রেপ্তার’ করার মত গুরুতর অভিযোগ তুলল কংগ্রেস (Congress)। দলটির দাবি, সোমবার সন্ধ্যা থেকেই অযোধ্যার একটি হোটেলে অজয় রাইকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং গভীর রাতে তাঁকে পুলিশি জিপে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। যোগী সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী’ এবং ‘কাপুরুষোচিত’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন স্বয়ং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
সোমবার গভীর রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে অজয় রাই দাবি করেন, প্রশাসন তাঁদের রামমন্দির সফরের পরিকল্পনা সম্পর্কে আগেই অবগত ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি অযোধ্যায় পৌঁছোনো মাত্রই বিজেপি (BJP) সরকার আতঙ্কিত হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “বিজেপি সরকারের স্বৈরাচার চরমে পৌঁছেছে। ৩০ জুন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের ভগবান শ্রীরামের দর্শনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি অযোধ্যায় পা রাখতেই সরকার এতটাই ভয় পেয়ে গেল যে, আমাকে হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের জিপে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
সম্প্রতি রামমন্দিরের প্রণামীর টাকা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই স্পর্শকাতর আবহে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের অযোধ্যা সফর রুখতেই প্রশাসন এমন তৎপরতা দেখিয়েছে।
কংগ্রেসের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের সরাসরি কোনও বক্তব্য এখনও না পাওয়া গেলেও, তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দয়াশঙ্কর সিংহ। পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ওঁরা তো ভগবান রামের অস্তিত্বই স্বীকার করেন না। কোনোদিন রামমন্দিরে যাননি, মন্দিরের নির্মাণকাজেও তাঁদের কোনো অবদান নেই। এখন স্রেফ রাজনীতি করছেন।”
কংগ্রেস সভাপতির এই ‘আটক’ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

