AI Robotic Canine Controversy | উদ্ভাবনের নামে জালিয়াতি! দিল্লির এআই সামিটে ‘চিনা কুকুর’ নিয়ে চরম অস্বস্তিতে কেন্দ্র, তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

AI Robotic Canine Controversy | উদ্ভাবনের নামে জালিয়াতি! দিল্লির এআই সামিটে ‘চিনা কুকুর’ নিয়ে চরম অস্বস্তিতে কেন্দ্র, তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র প্রাসাদ গড়তে চিনা মালমশলা! দিল্লির প্রগতি ময়দানে আয়োজিত বিশ্বমানের ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ এক ‘রোবট কুকুর’ (AI Robotic Canine Controversy) নিয়ে যে কেলেঙ্কারি সামনে এল, তাতে এখন গোটা বিশ্বের সামনে ভারতের মুখ পোড়ার জোগাড়। সৌজন্যে বেসরকারি গালগোটিয়াস ইউনিভার্সিটির (Galgotias College) একটি ‘রোবটিক ডগ’ এবং তা নিয়ে শুরু হওয়া তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোর।

ঘটনার সূত্রপাত গালগোটিয়াস ইউনিভার্সিটির স্টল থেকে। সেখানে ‘ওরিয়ন’ নামে একটি রোবট কুকুর প্রদর্শন করে দাবি করা হয়, এটি নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্ভাবন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা ক্যামেরার সামনে বুক ঠুকে দাবি করেন, রোবট কুকুরটি ৩৫০ কোটি টাকার এআই প্রকল্পের অধীনে তাদের নিজস্ব ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ থেকে তৈরি। কিন্তু নেটিজেনরা নিমেষেই প্রমাণ করে দেন যে, তথাকথিত এই ‘স্বদেশি’ রোবটটি আসলে চিনের ‘ইউনিট্রি গো-২’ মডেল, যা অনলাইনে মাত্র ২-৩ লক্ষ টাকায় কিনতে পাওয়া যায়। জালিয়াতির গন্ধ পেতেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। সরকারি নির্দেশে তড়িঘড়ি প্রদর্শনী থেকে গালগোটিয়াস ইউনিভার্সিটির স্টলটি খালি করে দেওয়া হয়।

অস্বস্তি চরমে পৌঁছোয় যখন দেখা যায়, খোদ কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো ওই ‘চিনা কুকুর’-এর ভিডিও শেয়ার করেছেন। জালিয়াতি ধরা পড়তেই তিনি পোস্টটি মুছে দেন। মন্ত্রীর সাফাই, ‘ভিড় বেশি হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে, আমরা ক্ষমা চাইছি।’ কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সরকারি নজরদারি এড়িয়ে ভারতের প্রথমসারির এআই সামিটে কীভাবে একটি চিনা পণ্যকে ভারতীয় উদ্ভাবন হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হল?

এই ঘটনাকে অস্ত্র করে মোদি সরকারকে বিঁধতে ছাড়েননি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘ভারতীয় মেধা ও ডাটাকে কাজে লাগানোর বদলে এই সামিটটি কেবল একটি অগোছালো পিআর প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। ভারতের ডাটা বিক্রি হচ্ছে আর প্রদর্শনীতে জায়গা পাচ্ছে চিনা পণ্য।’ কংগ্রেসের অভিযোগ, অশ্বিনী বৈষ্ণো নিজে এই মিথ্যা প্রচারের অংশীদার হয়ে বিদেশের কাছে ভারতের মাথা হেঁট করেছেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ বলেন, ‘বিজেপির বদলে যদি এআই এই সামিট পরিচালনা করত, তাহলে অন্তত দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ হত না।’ তাঁর দাবি, সামিটে চুরির ঘটনা থেকে শুরু করে ট্রাফিক জ্যাম, সব মিলিয়ে এটি সাধারণ মানুষের জন্য এক দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উদ্ভাবনের নামে ‘চিনা পণ্য’র এই ‘বিজ্ঞাপন’ ভারতের ডিজিটাল ইন্ডিয়া অভিযানে যে বড়সড়ো ধাক্কা দিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। রোবট-কুকুর বিতর্কে বুধবার ক্ষমা চেয়েছে গালগোটিয়াস ইউনিভার্সিটি। চিনা রোবটকে নিজেদের ‘উদ্ভাবন’ বলে দাবি করা অধ্যাপক নেহা সিংকে ‘অল্পশিক্ষিত’ বলে দায় ঝেড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ক্যামেরার সামনে অতি-উৎসাহে তিনি (নেহা সিং) ভুল তথ্য দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *