উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: যন্ত্র মানুষের মতো ভাবতে শুরু করলে ধরে নিতে হবে চেরনোবিলের মতো বড় বিপর্যয় খাঁড়ার মতো ঝুলছে মাথার ওপর! রাজধানীতে আয়োজিত ‘এআই সম্মেলন’ (AI Chernobyl catastrophe warning)-এ কৃত্রিম মেধা (এআই)-র ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে এমনই উদ্বেগজনক আশঙ্কার কথা জানালেন বিশিষ্ট এআই বিশেষজ্ঞ, বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টুয়ার্ট রাসেল। তাঁর মতে, ‘যদি যন্ত্র একবার নিজে থেকে ‘চিন্তা’ করতে শুরু করে, তবে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা বর্তমান সমাজ কল্পনাতেও আনতে পারছে না।’
বুধবার এআই (AI)-এর ঝুঁকি নিয়ে রাসেল সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম মেধার অনিয়ন্ত্রিত বিকাশের ফলে ভবিষ্যতে ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়ের মাপের কোনও বিরাট দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি জানান, অনেক শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ব্যক্তিগতভাবে এই ঝুঁকির কথা স্বীকার করেন শুধু তা-ই নয়, কাজ বন্ধ করতেও তাঁরা পিছপা নন। যদিও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার চাপে তা করে উঠতে পারছেন না।
রাসেলের বিশ্বাস, চেরনোবিলের মতো বড় কোনও আঘাত না এলে বিশ্বনেতারা এআই-এর নৈতিকতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় হয়তো কঠোর পদক্ষেপ করার কথা ভাববেন না। তিনি বর্তমান সরকারগুলোকে দ্রুত এই ঝুঁকিগুলি শনাক্ত করে সেগুলির ‘গ্রহণযোগ্য মাত্রা’ নির্ধারণের আহ্বান জানান। নিরাপত্তা বিধি ও স্বচ্ছতা উপেক্ষা করার মাশুল যে অত্যন্ত চড়া হতে পারে, চেরনোবিলের ইতিহাসই তার বড় প্রমাণ।
১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্ঘটনায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণের জেরে ব্যাপক প্রাণহানি ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেছিল। সোভিয়েত সমাজতন্ত্র পতনের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করা হয় চেরনোবিল দুর্ঘটনাকে।
