উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: একদা বামেদের দুর্ভেদ্য দুর্গ মেদিনীপুরের সঙ্কল্প সভা থেকে বিজেপি ও সিপিএমকে এক বন্ধনীতে রেখে তীব্র আক্রমণ শাণালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “মেদিনীপুরে বিজেপি (BJP) লিড পাওয়া মানে সিপিএমকে (CPM) অক্সিজেন দেওয়া।” মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের মোট ১৯টি আসনেই তৃণমূলকে জয়ী করার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে তিনি ‘১৯-০’ করার ডাক দেন।
সিপিএমের প্রাক্তন নেতা সুশান্ত ঘোষের ঘনিষ্ঠদের নাম উল্লেখ করে অভিষেক অভিযোগ করেন, ছোট আঙারিয়া মামলার অভিযুক্তরা এখন বিজেপির নেতা। তাঁর কটাক্ষ, “নতুন বোতলে পুরনো মদ! বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে পুরনো সন্ত্রাসকে ফিরিয়ে আনা।” তিনি মা-বোনেদের উদ্দেশে আহ্বান জানান বিজেপিকে ‘খাঁচাবন্দি’ করার জন্য।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত বা ‘SIR’ ইস্যু নিয়ে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি কর্মীদের নির্দেশ দেন, যদি ১৬ থেকে ১৯ জানুয়ারির মধ্যে কোনো বিজেপি নেতা ১০টির বেশি ‘নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম’ (ফর্ম-৭) জমা দিতে আসে, তবে যেন “শান্তিপূর্ণভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজিয়ে” প্রতিবাদ জানানো হয়। এমনকি প্রয়োজনে বিজেপি নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করারও পরামর্শ দেন তিনি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “বাংলায় নতুন প্রকল্প ‘ছানিশ্রী’ চালু করতে হবে, কারণ বিজেপি নেতাদের চোখের ছানি কাটানো দরকার।” একইসঙ্গে তিনি খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে দাবি করেন, হিরণ তৃণমূলে যোগ দিতে চাইলেও দল দরজা খোলেনি।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক ঘোষণা করেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকার আরও ২০ লক্ষ মানুষকে বাড়ি দেবে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আটকে দেওয়ার জন্য বিজেপি ও সিপিএমকে ‘বাংলাবিরোধী’ বলে দেগে দেন তিনি। তাঁর হুঁশিয়ারি, “বিজেপি এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে যে অত্যাচার করছে, সেই সব পাপের হিসাব আমার কাছে আছে!”
