উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের পুণেতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Employee) সুখেন মাহাতোর (২৬) (Sukhen Mahato) মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। এই আবহে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আজ, শুক্রবার পুরুলিয়া যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দুপুর ১২টা নাগাদ বরাবাজার থানার তুমড়াশোলের বাঁধডি গ্রামে পৌঁছে নিহত শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি দেখা করবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
পুরুলিয়ার বাসিন্দা সুখেন মাহাতো ২০২১ সাল থেকে পুণেতে একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার দুপুরে পুণের শিকরাপুর থানার কোরেগাঁও ভিমা এলাকা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার বিকেলে কাজে যাওয়ার পথে দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে, যা চরম আকার নিলে তাঁকে খুন করা হয়। যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
সুখেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাষাগত বিদ্বেষের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতোর দাবি, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণেই কুড়মি জনজাতির ওই যুবককে টার্গেট করে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দেশে ভিনরাজ্যের মানুষদের প্রতি বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এটি তারই ফল। তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি পরিবারের প্রতি পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্র পুলিশ ভাষাগত বিদ্বেষের তত্ত্ব খারিজ করে একে ব্যক্তিগত বচসা জনিত অপরাধ হিসেবে দেখছে। এই বৈপরীত্যের মাঝেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আজকের সফরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল সমবেদনা জানানোই নয়, বরং ভিন রাজ্যে কর্মরত বাংলার লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে সরব হতে পারেন। এর আগেও ওড়িশা ও মহারাষ্ট্রে বাঙালি শ্রমিকদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সুখেনের মৃত্যু সেই ক্ষতকে আরও একবার উসকে দিল।
পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন ও তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আজ অভিষেকের সফরের পর রাজ্য সরকার বা দলের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলাবাসী।
