উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ জল্পনা আর রাজনৈতিক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’ করলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা বর্তমানে NKDA চেয়ারম্যান শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোনো দলে ফেরার পরই তাঁরা দেখা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ স্বয়ং ফিরে আসা দুই নেতা-নেত্রীকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শোভন-বৈশাখীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি বলেন, “দল বেছে নেওয়ার অধিকার প্রত্যেকের আছে। ওনারা কয়েক বছর সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না। এবার আমাদের সঙ্গে লড়াই করবেন।” তিনি আরও জানান যে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতিক্রমেই দু’জনকে পুনরায় দলে ফেরানো হয়েছে।
২০১৮ সালে মেয়র ও মন্ত্রিত্ব পদ ছাড়ার পর ২০১৯ সালে শোভন বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ‘দিদি’র সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সম্প্রতি স্বাভাবিক হয়েছে, যার প্রাথমিক ইঙ্গিত মেলে সম্প্রতি তাঁর NKDA চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের মাধ্যমে।
তৃণমূলে ফিরে এসে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের গলায় ছিল আবেগ আর অঙ্গীকারের সুর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “তৃণমূলের সঙ্গে আমার আত্মিক যোগ। ঘরের ছেলে হিসাবে পুনরায় শামিল হলাম।” তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, “রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার জন্য। আমার সামর্থ্য মতো তৃণমূলের পাশে থাকব। সুন্দর ঘরকে আমার সমগ্র শক্তি দিয়ে আরও শক্তিশালী করে তুলব – এটা আমার দায়িত্ব, কর্তব্য।”
অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এই আলোচনার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোজাসুজি কেন্দ্রকে নিশানা করেন। বাঙালি হেনস্তার প্রতিবাদে তিনি সকলকে একসঙ্গে লড়ার ডাক দেন। এই ‘ঘর ওয়াপসি’র মাধ্যমে তৃণমূলের সংগঠন যে আরও মজবুত হল এবং আগামী দিনে তারা আরও আক্রমণাত্মকভাবে কেন্দ্রের নীতির বিরোধিতা করবে, সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক।
শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রত্যাবর্তনের ফলে তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধি হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, এই প্রত্যাবর্তন আসন্ন দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী নতুন মাত্রা যোগ করে।
