AAIB | ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’, আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টকে খারিজ করল তদন্ত সংস্থা

AAIB | ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’, আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টকে খারিজ করল তদন্ত সংস্থা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনাগ্রস্ত বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের সিনিয়র পাইলট সুমিত সাভারওয়ালই বিমানের ফুয়েল সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহকারী পাইলট তথা ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দর বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়ালকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি কেন বিমান ওড়ার কিছুক্ষণ পরই জ্বালানির স্যুইচ বন্ধ করেছেন? এরপর ফার্স্ট অফিসার আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, যদিও শান্তই ছিলেন ক্যাপ্টেন। ওই মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এমন দাবি করলেও, তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।বোয়িংয়ের বিমানের খামতি ঢাকতেই পাইলটের ঘাড়ে দোষ চাপানো হচ্ছে কি না, অনেকে এমন প্রশ্নও তুলছেন।

এবার সেই দাবিকেই নাকচ করে দিয়েছে এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। তাঁরা জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং এখনও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে, কয়েকদিন আগে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের জ্বালানির স্যুইচ কোনওভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার জেরে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সেই রিপোর্টে দুই পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ডও প্রকাশ করা হয়। যেখানে একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছে তুমি ফুয়েল সুইচ বন্ধ করলে কেন? অন্যজন তা অস্বীকার করে। তবে কোন কন্ঠস্বর কার তা স্পষ্ট করেনি এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। কিন্তু স্যুইচ বন্ধ করার জন্য এবার ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়ালকেই দায়ী করল মার্কিন সংবাদ মাধ্যম। যদিও একারই ৮,২০০ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়ালের। অত্যন্ত দক্ষ পাইলট হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন তিনি।

এদিন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের পালটা বিবৃতিতে এএআইবি জানিয়ে দেয়, দুর্ঘটনায় নিহত ২৪১ জন যাত্রী, ক্রু, ও মাটিতে থাকা আরও ১৯ জনের মৃত্যুর মূল কারণ ও সুপারিশ সহ চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। তবে আমাদের নজরে এসেছে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বারবার বেছে বেছে এবং যাচাই না করে তথ্য তুলে ধরছে। তদন্ত চলাকালীন এমন কাজ একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীন। তারা বলেছে, প্রাথমিক রিপোর্ট কেবল ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি। এই পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানা খুব তাড়াতাড়ি হবে। তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।’ একই সঙ্গে নিহতদের পরিবার যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাকে সম্মান করার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, ১২ জুন আহমেদাবাদে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বিমান। বিমানটিতে ২৪২ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনায়। কী কারণে এই দুর্ঘটনা, কয়েক সপ্তাহ ধরে এনিয়ে জল্পনা চলছিল। অনেকে দাবি করেন, ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণে খামতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন বলেছেন, ‘প্রাথমিক রিপোর্টে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান বা এর ইঞ্জিনে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির প্রমাণ মেলেনি। এমনকি রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কোনও সমস্যাও পাওয়া যায়নি। সমস্ত প্রক্রিয়া মেনে রক্ষণাবেক্ষণ হয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *