বিজ্ঞানচর্চা ছাড়া শিশুমনের সঠিক বিকাশ ও সংস্কারমুক্ত প্রজন্ম গড়ে উঠতে পারে না। তবে বিজ্ঞানের উজ্জ্বল ছটায় শিল্পকলা ও ভাষার চর্চাকে দুয়োরানি করে রাখা হয়। কিন্তু বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রার সঙ্গে আদপেই কি শিল্প ও শিল্পীমনের কোনও বিরোধ আছে? এই বিষয়ের উপর ভিত্তি করে মঞ্চস্থ হতে চলেছে ‘নান্দীকার’-এর নতুন নাটক ‘অবাঞ্ছিত শব্দগুচ্ছ’। নাটক রচনায় সপ্তর্ষি মৌলিক, নির্দেশনা সোহিনী সেনগুপ্ত। অভিনয়েও রয়েছেন দুজনেই। কোন ভাবনা থেকে এমন নাটক লিখলেন সপ্তর্ষি?
তিনি বলছেন, ‘কোনটা ঠিক কোনটা ভুল, এটা কি একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে কেউ বলে দিতে পারে?’ তাঁর সংযোজন, ‘আমরা নিশ্চয়ই বলতে পারি এই রাস্তায় বেশি মানুষ চলেছেন অতএব এই রাস্তা বেশি সহজ। কিন্তু অন্য কঠিন রাস্তাটি দিয়ে গিয়েও যে কেউ একই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না বা বেশি সফল হবে না এমনটা তো বলা যায় না!’ এই চিন্তাভাবনাকে বৃহত্তর অর্থে সামনে রেখেই গল্প বুনেছেন সপ্তর্ষি।
আরও পড়ুন:
নাটকের প্রেক্ষাপট একটি বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম। একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক কিছুদিনের জন্য অনুপস্থিত থাকায় আসেন এক নতুন শিক্ষিকা। তিনি সিলেবাসের কবিতাগুলি বোঝাতে শুরু করে জীবন সম্পর্কে নতুন দিক খুলে দেন ছাত্রছাত্রীদের সামনে। এর ফলে তাদের ভাবনাচিন্তা কীভাবে অন্য মাত্রা পায় সেই নিয়ে এগোবে নাটক। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের রয়েছে বলে মনে করেন সপ্তর্ষি। বিজ্ঞান এবং শিল্পসত্তার বিরোধ নয়, বরং সহাবস্থানই আরও বেশি করে কাম্য বলে মনে করেন তিনি। অনেকদিন আগে সপ্তর্ষির লেখা এই নাটককে মঞ্চস্থ করার ভাবনা এল কেন?

উত্তরে সোহিনী জানালেন, ‘আমি সবসময়ই এমন নাটক নামাতে চাই যেখানে আমাদের দলের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েকে যুক্ত করতে পারব। এরা অনেকেই সারাদিন চাকরি সামলে সারারাত রিহার্সাল দিতে চলে আসে। মঞ্চে অভিনয় করাটাকে একটা অপশন হিসেবে না দেখে নিজের ভেতরের ইচ্ছেকে সম্মান দেওয়াটা অনেক বেশি জরুরি বলে আমার মনে হয়।’
বয়স এবং ব্যস্ততা যেমনই হোক না কেন, সবসময় নতুন কিছু শিখতে চাওয়ার আগ্রহ খুব জরুরি, মনে করেন সোহিনী। তিনি নিজেও নতুন করে নাচ শেখায় আগ্রহী। এই প্রসঙ্গে বলতেই হয়, সোহিনীর অভিনীত ছবি ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবিতে তাঁর কাজ দর্শকের খুব পছন্দ হয়েছে এবং রমরমিয়ে চলছে। অন্যদিকে ধরাবাহিক আর মঞ্চেও তিনি সময় দিচ্ছেন। আর সপ্তর্ষিও সিরিয়াল-মঞ্চ মিলিয়ে চমৎকার ভারসাম্য রাখছেন। তাঁরা দু’জনে আট-ন’মাসের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে গিয়ে এই নাটক মঞ্চস্থ করছেন, যার অপেক্ষায় দর্শক।

‘জীবন সম্পর্কে কিছু ডায়লগ রাখব আমরা দর্শকদের সামনে, যেটা নিয়ে দর্শক ভাববেন, আলোচনা করবেন। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য। সমাজ বদলে দেওয়ার দায় নাটকের নেই, কিন্তু আমাদের বক্তব্য আমরা পেশ করতেই পারি। দর্শকের ওপর আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না’ বললেন তিনি। অভিনয়ে সোহিনী ও সপ্তর্ষি ছাড়াও থাকবেন সুমন্ত গঙ্গোপাধ্যায়, অর্ঘ্য দে সরকার, অনিন্দিতা চক্রবর্তী, সোমেশ সাহা, মলয় সরকার প্রমুখ। ২০ জুন অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে প্রথমবার মঞ্চস্থ হতে চলেছে নাটকটি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর

