৪০ হাজারের মোবাইল বিক্রি চার হাজারে! ঘুরপথে বাংলাদেশে পাচার, বড়সড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস শহরে

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


বাইক চুরি করে রাস্তায় মোবাইল ছিনতাই। এর পর সেই বাইক ‘সুবোধ বালকে’র মতো যথাস্থানে রেখে দিত দুষ্কৃতীরা। ছিনতাই করা ৪০ হাজার টাকার মোবাইল ছিনতাইকারীরা বিক্রি করে চার হাজার টাকায়। সেই চোরাই মোবাইল তিন হাত ঘুরে দালালের হাত ধরে পাচার হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে। কিছুদিন আগেই মধ্য কলকাতার বড়বাজারে একটি মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। বড়বাজার থানার ওসি পাপিন্দর সিং রনধওয়ার নেতৃত্বে তিন আধিকারিক পান্নালাল গুড়িয়া, রবীন্দ্র চৌধুরি ও আরশাদ আলি এর তদন্ত শুরু করেন। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে প্রথমে পুলিশ দুই ছিনতাইকারী মহম্মদ নাসিমকে তপসিয়া ও আসিফ আলি ওরফে আশুকে তিলজলা থেকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের জেরা করে বেনিয়াপুকুরে নাভেদ আনোয়ার ওরফে সাগরের ডেরায় হানা দেন পুলিশ আধিকারিকরা। বাংলাদেশে পাচার হওয়ার আগেই মোট ৫১টি মোবাইল উদ্ধার করল বড়বাজার থানার পুলিশ। সাগর চোরাই মোবাইলগুলি নাসিম-আসিফ-সহ একাধিক ছিনতাই ও চুরির গ‌্যাংয়ের কাছ থেকে কিনেছিল। যে বাইকটি নিয়ে ওই ছিনতাই হয়েছিল, সেটিও পুলিশ উদ্ধার করেছে। বাইকের মালিকের ভূমিকাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নাসিম ও আসিফ দু’জনই মাদকাসক্ত। ধৃত দু’জন মিলে রাতে তপসিয়া ও তিলজলার বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরনো চাবি দিয়ে বাইক চুরি করত। সেই চুরির বাইক নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে লক্ষ্য করত মোবাইলে কথা বলতে বলতে কে যাচ্ছেন, অথবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কে মোবাইল ঘাঁটছেন। ওই ব্যক্তির কাছে বাইক নিয়ে এসে মোবাইল ছিনতাই করে প্রচণ্ড গতিতে পালিয়ে যেত ধৃতরা। এর পর তিন থেকে চার হাজার টাকায় সাগরকে বিক্রি করত সেই ছিনতাইয়ের মোবাইল। সাগর একেকটি মোবাইল হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা লাভ রেখে তুলে দিত আরও এক দালালের হাতে। সেই মোবাইল পৌঁছে যেত সীমান্তের সিন্ডিকেটের হাতে। চোরাপথে সিন্ডিকেটের হাত ধরেই চোরাই মোবাইল পৌঁছে যেত বাংলাদেশে। বাংলাদেশের সিন্ডিকেট একেকটি মোবাইল হাজার দশেক টাকায় কিনে তা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করত বাংলাদেশের দোকানে।

আরও পড়ুন:

উদ্ধার হওয়া মোবাইল এবং বাইক।

কিছুদিন আগে মুর্শিদাবাদের এক ব‌্যবসায়ী বড়বাজার থেকে সামগ্রী কিনে ভোররাতে ব্রাবোন রোড ধরে হাঁটছিলেন। হাঁটতে হাঁটতেই কথা বলছিলেন মোবাইলে। হাওড়া ব্রিজে ওঠার আগেই তাঁর হাত থেকে মোবাইল ছিনতাই করে চম্পট দেয় নাসিম ও আসিফ। বড়বাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশের টিম একাধিক ফুটেজ দেখে প্রথমে তিলজলায় বাইকটি শনাক্ত করে। যদিও বাইকের মালিক কিছু বলতে পারেননি।

পুলিশের হাতে ধৃত তিনজন।

পুলিশ আধিকারিকদের ধারণা হয়, অভিযুক্তরা তিলজলা বা তপসিয়ার। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ নাসিম ও আসিফকে গ্রেপ্তার করে। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দশটি মোবাইল উদ্ধার করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ধৃতদের জেরা করে সাগরের ডেরায় হানা দিয়ে পুলিশ আরও ৪১টি মোবাইল উদ্ধার করে। কলকাতা ও আশপাশের অঞ্চল থেকেই ওই মোবাইলগুলি চুরি ও ছিনতাই করা হয়েছিল। এই চক্রের বাকিদের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *