বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাস পাঁচেকের মধ্যেই দলে আদি-নব্য নিয়ে বেশ দ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সকলেই বার্তা দিয়েছেন, দলে ‘বেনোজল’ ঢুকতে দেওয়া যাবে না। এই মর্মে জেলাগুলিতে নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের সেই বার্তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলছেন জেলা সভাপতিরা। এবার সেই নীতি মেনে ‘নব্য বিজেপি’কে কড়া বার্তা দিলেন কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। বললেন, ‘‘২৫ টাকার গেরুয়া গামছা পরে বিজেপি নেতা হওয়া যাবে না।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
মানিকবাবু বলেন, ‘‘আসলে ৪ মে-র পর বিজেপির নাম করে কেউ কেউ বিজেপিকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। সেগুলো হচ্ছে তৃণমূলের কাটমানি খাওয়া লোক এবং তৃণমূলের গুন্ডা বা দুষ্কৃতী। যারা দোকান থেকে ২৫ টাকার গেরুয়া গামছা কিনে গলায় জড়িয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বলতে যাচ্ছে। আর ভাবছে বিজেপি হয়ে গেছে, লোকে তাদের বিজেপি নেতা ভাববে। কিন্তু বিজেপি করা অত সোজা জিনিস না। এদের আমরা চিহ্নিত করছি। এদের থেকে আপনারা সাবধানে থাকবেন।”
আরও পড়ুন:
শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্বস্থলী ১ ব্লকে সংবর্ধনা সভা ছিল বিজেপির। সেই সভা থেকে ‘দলবদলু’দের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতি মানিক রায়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘২৫ টাকার গেরুয়া গামছা পরে বিজেপি নেতা হব যাঁরা ভাবছেন, সেটা হওয়া যাবে না বন্ধু। আমার জেলায় সেটা হতে দেব না।” তার আগে তিনি এও বলেন, ‘‘গেরুয়া রঙের উত্তরীয় কিনে গলায় পরে যারা ঘুরে বেড়াচ্ছে, এদের থেকে সাবধানে থাকবেন বন্ধু। ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তা, কর্মী হতে গেলে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে হয়, বুকের মধ্যে পদ্মফুলকে রাখতে হয়। আর জীবনটাকে ভারত মাতার জন্য বলিপ্রদত্ত – এটা ভেবে নিতে হয়।”
এরপরই আসল বিষয়টি চিহ্নিত করে মানিকবাবু বলেন, ‘‘আসলে ৪ মে-র পর বিজেপির নাম করে কেউ কেউ বিজেপিকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। সেগুলো হচ্ছে তৃণমূলের কাটমানি খাওয়া লোক এবং তৃণমূলের গুন্ডা বা দুষ্কৃতী। যারা দোকান থেকে ২৫ টাকার গেরুয়া গামছা কিনে গলায় জড়িয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বলতে যাচ্ছে। আর ভাবছে বিজেপি হয়ে গেছে, লোকে তাদের বিজেপি নেতা ভাববে। কিন্তু বিজেপি করা অত সোজা জিনিস না। এদের আমরা চিহ্নিত করছি। এদের থেকে আপনারা সাবধানে থাকবেন।” ‘ভাল তৃণমূল, খারাপ তৃণমূল’ বলে আলাদা করে বিজেপিতে যোগদান নিয়ে দলের ‘নানা মুনির নানা মত’। তবে তাতেও কিছু কিছু শর্ত আরোপ করে রেখেছে শাসক শিবির। গেরুয়া উত্তরীয় পরা কিংবা কথায় কথায় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিলেই যে বিজেপির সঙ্গে একাত্ম হওয়া যাবে না, সেটাই স্পষ্ট করে দিলেন কাটোয়ায় বিজেপির জেলা সভাপতি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
