অনেক সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ১৩ বছরেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। অথচ ভারতীয় আইনে ১৮-অনূর্ধ্বদের ধরা হয় ‘নাবালক’ বলে। তাহলে!
বেশি নয়, মাত্র ২-৩ দশক পিছিয়ে গেলেই হবে। শিশুদের খাওয়ানোর সময় মা-মাসিরা গল্প বলতেন। যাতে গল্পের নেশায় বিভোর হয়ে তারা চঞ্চলতা না করে, এবং পুরো খাবার খেয়ে নেয়। এ দৃশ্য আমাদের দেশে, আমাদের রাজ্যে, আমাদের পাড়া-প্রতিবেশে আকছার দেখা যেত। এরপর দৃশ্যটি খানিক বদলাল। দেখা গেল, টিভিতে চলা নানা ধরনের কার্টুনের প্রবাহ শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে, মনোরঞ্জন ঘটাচ্ছে। তারা খাওয়ার সময় অহেতুক বায়না বা ঝামেলা করছে না। কিছু দিন পরে আরও একটি বদল। শিশুরা কার্টুনের রকমারি প্রোগ্রাম টিভির বদলে স্মার্টফোনে দেখতে পছন্দ করতে থাকল। তবে এর জন্য মা-বাবা, বা অন্য অভিভাবকের দ্বারস্থ নয় তারা। দেখা গেল, স্মার্টফোনটি নিজে থেকে খুলতে পারছে তারা, কার্টুনের প্রোগ্রাম চালাতে পারছে। স্মার্টফোনের সান্নিধ্যে তারা খুঁজে পেল আরাম, স্বস্তি, বিনোদনের পরিসর। আর হালে, এমন দৃশ্য একেবারেই বিরল নয়, যেখানে বাড়ির শিশুটি স্মার্টফোনের বিষয়ে মা-বাবার থেকে বেশি জানে। কেমন করে তারা ডেমনস্ট্রেশন ‘ফলো’ করতে শেখে, কোনটার পরে কী করতে হবে, তাই বা কেমন করে বোঝে-ভেবে বাড়ির বড়রা স্তম্ভিত হয়ে যায়!
আরও পড়ুন:
শিশুদের ‘কগনিটিভ পাওয়ার’ বা বুদ্ধিবৃত্তীয় ক্ষমতাকে বিভিন্ন স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থা কাজে লাগাতে চেয়েছে। ৫ বছরের কমবয়সি শিশুরা যদি স্বতঃই একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারে, যেখানে তাদের বাড়তি ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে না, সেই সক্ষমতাকে, ওই স্মার্টফোনটির ‘ইউজার-ফ্রেন্ডলি’ হওয়ার নির্দশন রূপে ধরা হয়। অন্য কারও সহায়তা ছাড়া, আপন বিবেচনা বোধকে কাজ লাগিয়ে, যে-শিশুরা ফোনের অন্ধিসন্ধি চিনে ফেলে, তারা যে অদূরভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারেও পারংগম হয়ে উঠবে, তা নিশ্চয় আলাদা করে বলে দিতে হবে না।
অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি-সহ অনেক দেশই নাবালকদের সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশাধিকার দিতে নারাজ। যে স্মার্টফোন অনলাইন ক্লাসের সুযোগ করে দেয়, সেই স্মার্টফোনই নাবালকদের জীবনে অহেতুক উত্তেজনা বা উদ্বেগের সঞ্চার ঘটাক- এমনটি চায় না বলেই নির্দিষ্ট একটি বয়সসীমা বেঁধে দিয়ে বলা হয়েছে- এর তলায় থাকা ছেলে-মেয়েরা সামাজিক মাধ্যমে অংশ নিতে পারবে না।
ভারতও এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেছে। ঠোস সরকারি নথি না থাকলেও একাধিক সমীক্ষার তুলনামূলক আলোচনা থেকে জানা যাচ্ছে, ভারতে ১৪-১৬ বছরের কিশোর-কিশোরীর ৮২ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এদের ৭৬ শতাংশ আবার সামাজিক মাধ্যমে ঘোরতরভাবে সংযুক্ত, আসক্ত। অধিকাংশ সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম আমেরিকার আইনে নিবন্ধিত। ১৩ বছরে হলেও অনেক প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। অথচ ভারতীয় আইনে ১৮-অনূর্ধ্বদের ধরা হয় ‘নাবালক’ বলে। মাঙ্গলিক দুশ্চিন্তা থেকেই এদেরকে সামাজিক মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
