সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাছ ধরার ট্রলার ব্যবহার করে ইয়েমেনে পাচার করা হত ব্যালেস্টিক মিসাইলের যন্ত্রাংশ। ইরান থেকে চোরাপথে সেই মারণাস্ত্র পৌঁছে যেত হাউথি বিদ্রোহীদের কাছে। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহৃত হত এই মিসাইল। মধ্যপ্রাচ্যে এহেন অস্ত্র পাচারের অন্যতম মাথা এক পাক নাগরিককে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দিল আমেরিকার আদালত।
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ৪৯ বছর বয়সি পাক নাগরিক মহম্মদ পেহলওয়ানকে আরব সাগরে গ্রেপ্তার করেছিল মার্কিন সেনা। সেই অভিযানে মৃত্যু হয় মার্কিন নৌসেনার দুই কমান্ডারের। পেহলওয়ানকে গ্রেপ্তার করে আনা হয় আমেরিকায়। তদন্তে জানা যায়, যে সব অস্ত্র জাহাজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেগুলি ছিল ইরানের। সেই সময় হাউথি গোষ্ঠী ইজরায়েলের মাটিতে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছিল। ইরান থেকে হাউথিদের কাছে সেই সব মারণাস্ত্রের যোগান আসছিল পেহলওয়ানের মাধ্যমে। বিচারে সন্ত্রাসবাদ ও অস্ত্রপাচারের মতো মোট ৫টি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন ওই পাক নাগরিক। যার জেরে মোট ৪৮০ মাস (৪০ বছর) কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিচার চলাকালীন ওই ট্রলারের ক্রু মেম্বারদের সাক্ষ্যও নেওয়া হয়। যেখানে তাঁরা জানান, ট্রলারে যে প্যাকেটগুলি বোঝাই করা হয়েছিল (পরে যা প্রমাণিত হয় ব্যালেস্টিক মিসাইলের যন্ত্রাংশ) সে বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারনা ছিল না। গ্রেপ্তারির ঠিক আগে নিজের স্ত্রীকে একটি মেসেজও পাঠিয়েছিলেন পেহলওয়ান। যেখানে তিনি নিজেকে হেঁটে চলা মৃতদেহ বলে দাবি করেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, পেহলওয়ানের ইরানি বন্ধু ইউনুস এবং শাহাব মিরকাজি এই চোরাচালান বাবদ ১.৪ বিলিয়ন রিয়াল দিয়েছিল। গ্রেপ্তারের আগে হাউথিদের কাছে দুটি চালান পাঠিয়েছিল ওই পাক যুবক।
